এবার কুশিয়ারা নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে গোলাপগঞ্জে ‘তৌহিদী জনতা’র বিক্ষোভ: ঐতিহ্য রক্ষায় বাইচ আয়োজনে অনড় প্রশাসন
সিলেট ও গোলাপগঞ্জ ডেস্ক: সিলেটের বিয়ানীবাজারের পর এবার গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতা’। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে উপজেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নৌকাবাইচ আবহমান বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ; তাই পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আনন্দমুখর পরিবেশেই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জুমার নামাজের পর গোলাপগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ বাজারে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। মিছিলে স্থানীয় একাধিক কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মীরগঞ্জ বাজারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ
জুমার নামাজের পর মীরগঞ্জ বাজারে বের হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশ করে। মাওলানা আব্বাস আল মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আল ইহসান পরিষদের সভাপতি মাওলানা হিফজুর রহমান, আলহেরা একাডেমির সভাপতি সয়েফ উদ্দিন, জামিয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জাকারিয়া, সদর মাওলানা আবু সুফিয়ান এবং হাফিজ জয়নুল আবেদীনসহ স্থানীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, কুশিয়ারা নদীতে কয়েকটি গ্রামের যৌথ উদ্যোগে নৌকাবাইচের যে আয়োজন করা হয়েছে তা অনৈসলামিক। কোনো ধরনের অপসংস্কৃতি, বাদ্যযন্ত্রের অপব্যবহার কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নৌকাবাইচ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আয়োজক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্য
এদিকে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হেলাল আহমদ জানান, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুশিয়ারা নদীতে নৌকাবাইচের নির্ধারিত সময় রয়েছে। এটি বেশ কিছুদিন আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল এবং তখন স্থানীয় কোনো মহল বা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের আপত্তি জানায়নি। একদম শেষ মুহূর্তে হঠাৎ করে এমন বিক্ষোভ কর্মসূচি অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘ঐতিহ্য বন্ধ হবে না, বাইচ হবে’—ইউএনও
বিষয়টি নিয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের কথা হয়েছে। তাদের মূল উদ্বেগের জায়গা ছিল নৌকাবাইচকে ঘিরে এলাকায় কোনো ধরনের জুয়া, অশ্লীলতা বা অশালীন গান-বাজনা যেন না চলে। প্রশাসন এ বিষয়ে শতভাগ সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান জানিয়ে ইউএনও বলেন, “নৌকাবাইচ বাঙালির শত বছরের লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কোনোভাবেই বন্ধ হতে দেওয়া হবে না। নিজস্ব বাঙালি সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ হয়ে গেলে বিজাতীয় সংস্কৃতি সমাজকে গ্রাস করবে। তাই কুশিয়ারা নদীতে পূর্বনির্ধারিত নৌকাবাইচ অবশ্যই হবে এবং তা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও আনন্দমুখর পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে সিলেটের বিয়ানীবাজারে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতেও একই ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ও সহযোগিতায় গত ২৮ আগস্ট হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে সেই নৌকাবাইচ সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
এস এম সোহাগ ফরাজী