ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার কারবার: অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের আরও ২ সদস্য সিআইডির জালে
ক্রাইম ও সাইবার ডেস্ক / ঢাকা: অনলাইনে নিষিদ্ধ জুয়া পরিচালনা, কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন এবং দেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রের আরও দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রামপুরার পূর্ব হাজী পাড়াস্থ একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর একই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—
১. সজীব দে (৩৭), পিতা—সুজন দে, মাতা—সান্ত্বনা দে। স্থায়ী ঠিকানা—কেলি শহর, পটিয়া, চট্টগ্রাম; বর্তমান ঠিকানা—খিলক্ষেত, পূর্ব নামাপাড়া, ঢাকা।
২. মো. মাসুদ রানা (৩০), পিতা—মৃত মনতাজ মিয়া, মাতা—বিবি হাজেরা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা—ধলি গৌরনগর (বালুরটেক), লালমোহন, ভোলা; বর্তমান ঠিকানা—পূর্ব রামপুরা, জামতলা, ঢাকা।
যেভাবে চলত অবৈধ জুয়া ও হুন্ডি কারবার
সিআইডির সাইবার মনিটরিং সেলের অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি দেশ ও দেশের বাইরে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ তরুণ ও যুবসমাজকে জুয়ার ফাঁদে ফেলা হতো।
তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটি কোনো অস্তিত্বহীন বা ভুয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে প্রতারণার মাধ্যমে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)-এর উদ্যোক্তা সিম ও বাণিজ্যিক অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে জুয়াড়িদের কাছ থেকে এসব অ্যাকাউন্টে টাকা এনে ডিজিটাল চ্যানেলে ও হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার করত।
নগদ হাউসে অভিযান ও আলামত জব্দ
তদন্তে প্রাপ্ত সূত্রের ভিত্তিতে সিআইডির সাইবার টিম রামপুরার ৬৭, পূর্ব হাজী পাড়ার ‘এসএস কর্পোরেশন (নগদ হাউজ)’-এ ঝটিকা অভিযান চালায়। সেখান থেকে সজীব ও মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন বেটিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামিরা স্বীকার করেছে যে, তারা সংঘবদ্ধ চক্রকে ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট তৈরি করে জুয়ার টাকা সংগ্রহে সহায়তা করত এবং বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়ে লাভবান হতো।
পল্টন থানায় মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর একাধিক ধারায় একটি নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৩৫, তারিখ: ৩১/০৮/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়া ও মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত মূল হোতা এবং পলাতক অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী।