মক্কার দিকে ধেয়ে আসা ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করল সৌদি আরব: পবিত্র স্থানে হামলা ‘রেড লাইন’ অতিক্রমের শামিল, সতর্কতা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ঢাকা: ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কার দিকে ধাবমান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একটি দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করেছে সৌদি রাজকীয় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী (Royal Saudi Air Defense Forces)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ঘটনার পরপরই মক্কা, তায়েফ ও বন্দরনগরী জেদ্দায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।
আকাশসীমায় ঢোকার আগেই প্রতিহত
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
পবিত্র স্থানে সাধারণ উপাসক ও ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি হুথিদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেন, “দুই পবিত্র মসজিদ (মক্কা ও মদিনা) এবং পুণ্যার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখা আমাদের জন্য ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা। এই সীমারেখা অতিক্রমের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”
২০১৭ সালের পর প্রথম জরুরি সতর্কতা
ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার পরপরই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পবিত্র শহর মক্কায় বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়, যা ২০১৭ সালের পর এই প্রথম। যদিও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সংকেত তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে সীমান্তবর্তী তায়েফ এবং সৌদির বাণিজ্যিক রাজধানী জেদ্দায় সমন্বিত সতর্কতামূলক প্রটোকল কার্যকর রাখা হয়।
হুথিদের অস্বীকার ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
অন্যদিকে ইয়েমেনের সানাভিত্তিক সাবা বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুথি সামরিক সূত্র মক্কা কিংবা কোনো ধর্মীয় পবিত্র স্থানকে নিশানা করার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তারা সৌদি আরবের এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর প্রচার’ বলে দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, সাম্প্রতিক এ ঘটনায় তা আবারও চরম উত্তেজনায় রূপ নিল। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ফলে কিছুটা শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করলেও, চলতি বছরের জুলাই থেকে লোহিত সাগরে অবরোধ ও উপকূলীয় ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে হুথিরা নতুন করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে।
বিশ্বের ২০০ কোটির বেশি মুসলমানের পরম শ্রদ্ধার কেন্দ্রভূমি পবিত্র মক্কা নগরী। প্রতিবছর লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ ওমরাহ ও হজ পালনে সেখানে সমবেত হন। সংঘাতের এই নতুন গতিপ্রকৃতি পুণ্যার্থীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র আলজাজিরা