সৈয়দপুরে পুকুর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তাজা গ্রেনেড উদ্ধার: ওসির বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ, নিষ্ক্রিয় করছে র্যাব
স্টাফ রিপোর্টার / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি মাছের পুকুর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত একটি তাজা (সক্রিয়) হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্বাসকান্দর ডাঙ্গাপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে গ্রেনেডটি উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে রংপুর থেকে আসা র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট গ্রেনেডটি নিরাপদ স্থানে ধ্বংস ও নিষ্ক্রিয় করার কাজ চালাচ্ছে।
গোসল করতে গিয়ে গ্রেনেডের সন্ধান
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা আশির উদ্দিন শাহের পুকুরে এলাকার তানভির ও আনসারুল নামের দুই যুবক গোসল করতে নামেন। এ সময় তানভিরের পায়ে লোহার মতো শক্ত কোনো বস্তু স্পর্শ করে। কৌতূহলবশত পানির তলদেশ থেকে বস্তুটি তুলে আনার পর দেখা যায় এটি একটি তাজা গ্রেনেড। পরবর্তীতে যুবকেরা সেটিকে সাবধানে পুকুরপাড়ে এনে একটি পলিথিনে মুড়িয়ে নিরাপদ দূরত্বে রাখেন।
থানা পুলিশের অবহেলা, উদ্ধারে নামল র্যাব
বিস্ফোরকটি উদ্ধারের পর স্থানীয় যুবকরা বিষয়টি সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করলে তিনি গ্রেনেডটিকে ‘খেলনা’ বলে দাবি করে দায় এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। থানার পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা বিষয়টি র্যাব-১৩-কে জানায়।
খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে নীলফামারী সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার আশরাফুল কবির এবং স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এটিএম তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল দ্রুত শ্বাসকান্দর ডাঙ্গাপাড়ায় পৌঁছে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং গ্রেনেডটি উদ্ধার করে।
নিষ্ক্রিয় করছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট
র্যাবের বিশেষজ্ঞরা পর্যবেক্ষণ শেষে নিশ্চিত করেন যে, উদ্ধার হওয়া গ্রেনেডটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালীন হলেও তা এখনও অত্যন্ত তাজা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে রংপুর থেকে সার্জেন্ট আব্দুল বারীর নেতৃত্বে র্যাবের একটি বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল (বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট) ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, গ্রেনেডটি সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করার কার্যক্রম চলছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও র্যাবের তাৎক্ষণিক দায়িত্বশীল ভূমিকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
দৈনিক জীবনযাত্রা