বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত বৃদ্ধার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু: পায়ে আঘাত পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রীও
স্টাফ রিপোর্টার / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর গাড়িবহরের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত বৃদ্ধা ফিরোজা বেগম (৭৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী নিজেও পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা সোয়া ১১টার দিকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ব্রিজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিচয়
নিহত ফিরোজা বেগম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
যেভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের উদ্দেশে সস্ত্রীক যাত্রা করছিলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। সকাল পৌনে ৯টার দিকে গাড়িবহরটি শিবগঞ্জের কিচক ব্রিজের মুখে পৌঁছালে বৃদ্ধা ফিরোজা বেগম রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৃদ্ধাকে ধাক্কা দেয় এবং সড়কের পাশের নিচু জমিতে নেমে যায়।
প্রতিমন্ত্রীর গানম্যান মুক্তারুল জানান, দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে প্রতিমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী, ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন। দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী পায়ে আঘাত পান। তাৎক্ষণিকভাবে বহরের অন্য একটি গাড়িতে করে চিকিৎসার জন্য তাঁকে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অর্থোপেডিক্স বিভাগে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে বেলা সোয়া ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বৃদ্ধার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও পুলিশের বক্তব্য
নিহত বৃদ্ধার ভাতিজা মো. জাকির ও মোহাম্মদ ইমরান আলী নয়ন জানান, সকালে জিনিসপত্র নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন ফিরোজা বেগম। বয়োবৃদ্ধ হওয়ায় সড়ক পারাপারের সময় তিনি দ্রুতগতির গাড়িবহরটি সম্ভবত খেয়াল করতে পারেননি। ধাক্কা লাগার পর হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় প্রশাসন নিহতের পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ও সদর থানার ওসি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
দৈনিক জীবনযাত্রা