• মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
অভিনয়ে ফেরার চেয়ে ব্যক্তিগত শান্তি ও ইবাদতেই মনোযোগ: বাকি জীবন সৃষ্টিকর্তার স্মরণে কাটাতে চান চিত্রনায়িকা পপি সাভারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ : পীরের ওপর হামলার গুঞ্জন, সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দিয়ে কঠোর বার্তা দলের রণাঙ্গনের ‘পাপা টাইগার’ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক: বঙ্গবীর ওসমানীর জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’-এর যাত্রা শুরু: উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মব সহিংসতা রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে: সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তার ওপর হামলা ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ সিলেটে ট্রিপল মা-র্ডা-রে-র নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি: প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত: আজ সিলেট সফরে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ: দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত: আহত আরও ৪ জন

স্বজনদের কান্নায় কেঁদেছেন তারেক রহমান: গুমের অন্ধকার পেরিয়ে ন্যায়বিচারের নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ

Reporter Name / ২৫ Time View
Update : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

স্বজনদের কান্নায় কেঁদেছেন তারেক রহমান: গুমের অন্ধকার পেরিয়ে ন্যায়বিচারের নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ

ডেস্ক: একজন মানুষকে হারানোর কষ্ট হয়তো একসময় শোক ও চোখের পানিতে প্রকাশ করা যায়। কিন্তু প্রিয় মানুষটি কোথায়—তিনি বেঁচে আছেন নাকি নেই—তা না জেনে বছরের পর বছর পথ চেয়ে থাকার কষ্টের কোনো ভাষা হয় না। এই অপেক্ষা গভীর বেদনার, এক অন্তহীন মানসিক যন্ত্রণার।

আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিনটি কেবল গুমের শিকার মানুষদের স্মরণ করার নয়; দিনটি সেইসব মায়ের অশ্রু, স্ত্রীর প্রতীক্ষা, সন্তানের দীর্ঘশ্বাস ও পরিবারের বোবা কান্নাকে ধারণ করার দিন। প্রিয় মানুষটি কেমন আছেন বা আদৌ বেঁচে আছেন কি না—এই প্রশ্নের উত্তরহীন যন্ত্রণায় বাংলাদেশে অসংখ্য পরিবারকে বছরের পর বছর পার করতে হয়েছে।

১৬ বছরের কালো অধ্যায় ও গুমের পরিসংখ্যান

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে ‘গুম’ একটি ভীতিকর ও নিয়মিত রাষ্ট্রীয় অপরাধে পরিণত হয়েছিল। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে গঠিত গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কাছে জমা পড়া ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগের মধ্যে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি ঘটনাকে ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১ হাজার ৫৬৪টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ২১৫টি, ২০১৭ সালে ১৯৪টি এবং ২০১৮ সালে ১৯২টি গুমের ঘটনা ঘটে। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে এ তৎপরতা তীব্র হতো। রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ৯৪৮ জনের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছিলেন সিংহভাগ; এখনো নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের ৬৮ শতাংশই বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত।

দৈনিক সমকালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই শাসনামলে বিএনপির অন্তত ৩১২ জন নেতাকর্মী গুমের শিকার হন, যাঁদের মধ্যে ১০৭ জনের সন্ধান মেলেনি এবং তাঁদের তুলে নেওয়ার পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর মতো অসংখ্য পরিবারের অপেক্ষার প্রহর এক দশকেও শেষ হয়নি।

স্বজনদের কান্নায় আবেগাপ্লুত তারেক রহমান

এই দীর্ঘ অন্ধকার ও অনিশ্চয়তার পর রাষ্ট্রের বর্তমান দায়িত্বশীল নেতৃত্বে মানবিকতার এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গুম ও খুনের শিকার পরিবারের হৃদয়বিদারক আর্তনাদ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তৎকালীন বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে এক সন্তান জানিয়েছিল, মাত্র দুই মাস বয়সে বাবা গুম হওয়ায় সে জীবনে কখনো ‘বাবা’ ডাকতে পারেনি; আরেক শিশু বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার অপূর্ণ স্বপ্নের কথা বলে কেঁদেছিল। স্বজনদের সেই কান্নায় একাত্ম হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, “অনেক সন্তান এখনো দরজায় বাবার কড়া নাড়ার অপেক্ষায় আছে, অনেক মা হারিয়ে যাওয়া সন্তানের ফেরার পথ চেয়ে আছেন।” তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, বিগত সরকারের আমলে গুম-খুনে জড়িতদের বিচার না হলে সমাজে অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তবে এ বিচার হতে হবে প্রতিশোধের বাইরে—সম্পূর্ণ আইনের শাসন ও নিরপেক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে।

আইনি সংস্কার ও নতুন দিনের অঙ্গীকার

বর্তমান সরকার গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৬ সালে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপসহীন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে বা দীর্ঘকাল উদ্ধার না হলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে বাংলাদেশ আজ নতুন প্রত্যয়ে দাঁড়িয়ে। কোনো রাজনৈতিক বিশ্বাস বা মতের কারণে যেন আর কাউকে বেআইনিভাবে তুলে নেওয়া না হয়, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার না ঘটে এবং আর কোনো মায়ের বুক যেন প্রিয়জনের অনিশ্চিত ভাগ্যের বেদনায় খালি না হয়—আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মধ্য দিয়ে সেই মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণই হোক জাতির অবিচল অঙ্গীকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd