মাদারগঞ্জে ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: আল-আকাবা সমিতির পরিচালক ও জামায়াতের সাবেক আমির ওয়াহেদ কারাগার
স্টাফ রিপোর্টার। দৈনিক জীবনযাত্রা।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ‘আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতি’র নামে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার আড়ালে গ্রাহকদের প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. আব্দুল ওয়াহেদকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তারকৃত ওয়াহেদ উক্ত সমিতির পরিচালক এবং মাদারগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির।
গত বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে র্যাব-১৪ (জামালপুর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে জামালপুর সদর উপজেলার বাইপাস এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন র্যাব সদস্যরা। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাকে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযান ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ:
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল ওয়াহেদের অবস্থান নিশ্চিত করার পর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি ২০২৫ সালের ৪ মে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে পুলিশ আদালতে উপস্থাপন করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও মামলা:
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সমবায় সমিতির আড়ালে অবৈধ ব্যাংকিং চালিয়ে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে আল-আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করেন। আব্দুল ওয়াহেদের বিরুদ্ধে মোট ৮টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৭টি মামলাতেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।
সমবায় অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সমিতিটির মোট নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ১২ হাজার ৬৬আইজন। তাঁদের আমানতের মোট পরিমাণ প্রায় ৩৯১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩৭৬ টাকা। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ আত্মসাতের খবর প্রকাশ্যে আসার পর এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আব্দুল ওয়াহেদকে জামায়াতে ইসলামী থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য:
জামালপুর র্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর লাবিদ আহমেদ বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বহু মামলার পরোয়ানাভুক্ত এ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের জন্য তাকে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছিল।”
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় জানান, “র্যাবের কাছ থেকে আসামিকে থানায় গ্রহণ করার পর বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী
সম্পাদক প্রকাশ