লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন: শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিম গ্রেপ্তার, প্রধান শিক্ষকের ছেলে পলাতক
স্টাফ রিপোর্টার:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন মান্দারী ইউনিয়নের একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগের এক শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাওলানা ইব্রাহিম নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত অপর ব্যক্তি—মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের ছেলে মোহাম্মদ এখনও পলাতক রয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করার পর ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সন্তানকে হাফেজ বানানোর স্বপ্নে আঘাত:
স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, মান্দারী ইউনিয়নের গন্ধব্যপুর এলাকায় অবস্থিত ‘এহইয়াউল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা’র আবাসিক শাখায় রেখে শিশুটিকে পড়াশোনা করানো হচ্ছিল।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সন্তানকে পবিত্র কোরআনের হাফেজ বানানোর লালিত স্বপ্ন নিয়ে তিনি কষ্ট করে আবাসিক বিভাগে দিয়েছিলেন। শিশুটি ইতোমধ্যে কোরআনের চার পারা হিফজ সম্পন্নও করেছিল। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিম এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের ছেলে মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির ওপর পাশবিক মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি বাড়ি ফিরে শিশুটি মায়ের কাছে শিক্ষকদের এই নৃশংস আচরণের কথা প্রকাশ করে। মা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ:
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির মায়ের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, মামলার অপর এজাহারভুক্ত আসামি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের ছেলে মোহাম্মদ ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী