লালমাই পাহাড়ে স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন: মূল হোতাসহ ৪ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার ক্রাইম ডেস্ক:
কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম খুনের চাঞ্চল্যকর ক্লু ও মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশের টানা সাঁড়াশি অভিযানে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ও সন্দেহভাজন ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার এবং স্বল্প সময়ের ব্যবধানে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের এ তাৎক্ষণিক সাফল্য পুরো অঞ্চলে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
নিখোঁজ থেকে পাহাড়ে মরদেহ
নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে এবং কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ির বাসা থেকে মায়ের মোবাইল ফোন নিয়ে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের গভীর জঙ্গল থেকে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও আসামি গ্রেপ্তার
ঘটনাটির পরপরই পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের একাধিক দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে জেলা পুলিশ জানতে পারে, এটি একটি ছিনতাই ও কিশোর অপরাধ চক্রের কাজ। নিহত অপ্রতিমের চেয়ে বয়সে কিছুটা বড় স্থানীয় একদল বখাটে ও অপরাধপ্রবণ কিশোর-তরুণ মোবাইল ফোন ছিনতাই বা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায় এবং নির্মমভাবে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।
টানা অভিযানে পুলিশ অভিযুক্ত চার সন্দেহভাজন আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে নিহত অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
দ্রুততম সময়ে চার্জশিটের প্রস্তুতি
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল মোটিভ পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হবে, যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
এস এম সোহাগ ফরাজী