মাঝনদীতে চলন্ত লঞ্চে প্রসববেদনা: ‘৯৯৯’-এ ফোন পেয়ে গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড, সদরঘাট থেকে হাসপাতালে ভর্তি
জাতীয় ও স্বাস্থ্য ডেস্ক / ঢাকা: বরিশাল থেকে ঢাকাগামী মাঝনদীতে একটি চলন্ত যাত্রীবাহী লঞ্চে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর তীব্র প্রসববেদনা শুরু হলে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তাঁকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। উদ্ধারকারী দলের দ্রুত পদক্ষেপে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই ওই নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে ঢাকার সদরঘাটে নামানো হয় এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে মেঘনা নদীর জলসীমায় এই মানবিক ও রোমহর্ষক উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।
যাত্রীর ফোন ও ৯৯৯-এর দ্রুত সমন্বয়
জরুরি সেবা ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার রাতে বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানাধীন উলানিয়া কালিগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে স্বজনদের নিয়ে ‘এমভি দোয়েল পাখি-১০’ নামক একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে ওঠেন ওই গর্ভবতী নারী। লঞ্চটি ঘাট ছেড়ে মাঝনদীতে চলার কিছুক্ষণ পরই তাঁর তীব্র প্রসববেদনা শুরু হয়। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় নারীটি কান্নাকাটি করতে থাকলে লঞ্চজুড়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হয় এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাতভর অপেক্ষার ঝুঁকি না নিয়ে চলন্ত লঞ্চের এক সচেতন সহযাত্রী দ্রুত ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চান। কলটি রিসিভ করেন ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল করুণা সরকার। বিষয়টি অতি জরুরি ও জীবন-মরণ সমস্যা বুঝতে পেরে তিনি সাথে সাথে উদ্ধার সমন্বয়ক ও ৯৯৯ ডিসপাচার এএসআই মাসুম বিল্লাহকে বিষয়টি অবহিত করেন। ৯৯৯ নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলার কোস্টগার্ড কন্ট্রোলরুম এবং নারায়ণগঞ্জ জোন নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মাঝনদী থেকে স্পিডবোটে উদ্ধার
বার্তা পাওয়ামাত্রই নারায়ণগঞ্জ পাগলা কোস্টগার্ড স্টেশনের একটি দক্ষ ও চৌকস উদ্ধারকারী দল আধুনিক দ্রুতগামী স্পিডবোট নিয়ে মাঝনদীতে অবস্থানরত চলন্ত ‘দোয়েল পাখি-১০’ লঞ্চটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মাঝনদীতে চলন্ত লঞ্চ থেকে অসুস্থ অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিরাপদে কোস্টগার্ডের দ্রুতগামী স্পিডবোটে স্থানান্তর করা হয়। এরপর জরুরি গতিতে তাঁকে নিয়ে ঢাকার সদরঘাট টার্মিনালে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখান থেকে স্বজনরা কালবিলম্ব না করে দ্রুত তাঁকে পুরান ঢাকার নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। সময়োচিত এই সাহসী পদক্ষেপে ওই নারী ও অনাগত সন্তানের জীবন রক্ষা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা
এস এম সোহাগ ফরাজী