‘ইলিয়াস ভুল মানুষকে নিয়ে কল্পকাহিনী বানাচ্ছে’: কুয়েতি রাষ্ট্রদূত ও ভাইরাল ছবি নিয়ে মুখ খুললেন মেঘনা আলম
বিনোদন ও লাইফস্টাইল ডেস্ক / ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের করা সাম্প্রতিক ভিডিও ও বিভিন্ন প্রচারণাকে সরাসরি নাকচ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মডেল, অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। তাঁর দাবি, তাঁর পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও আত্মমর্যাদা না বুঝেই তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন একজনের সঙ্গে জড়িয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যার অবস্থান তাঁর প্রতিষ্ঠানের ‘এমপ্লয়ী লেভেলের’। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সাবেক রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আল দুহাইলানের সঙ্গে তাঁর অতীত সম্পর্কের জটিল সমীকরণ এবং ভাইরাল হওয়া ছবির পেছনের প্রেক্ষাপট দীর্ঘ স্ট্যাটাসে প্রকাশ করেছেন তিনি।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি সম্পর্কের টানাপোড়েন, অতীতের সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত অনুশোচনার কথা অকপটে তুলে ধরেন।
ভাইরাল ছবির পেছনের পরিচয় ও প্রেক্ষাপট
ছবির ব্যক্তির পরিচয় স্পষ্ট করে মেঘনা আলম জানান, ছবিতে দৃশ্যমান কুয়েতি নাগরিক মূলত কুয়েত এয়ারওয়েজের তিনটি দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান। তিনি লেখেন, “ওর সাথে আমার প্রাক্তন ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলানই আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয়। ঈসা প্রায়ই আমার জন্য বড় বড় পার্টি আয়োজন করত এবং এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাত, যাতে আমার পরিচিতি বাড়ে। ও সব সময় চাইত আমি বাংলাদেশে অনেক বড় ব্যক্তিত্ব হই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বভাবসুলভভাবে তিনি অন্তর্মুখী (ইন্ট্রোভার্ট) হলেও ওই পার্টিতে কুয়েতি কর্মকর্তার সাথে কিছুটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাসাহাসি করেছিলেন। এটি দেখে ঈসা প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত (ইনসিকিউর) হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাঁর প্রথম স্ত্রীর কাছে মেঘনাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণ ও ব্যক্তিগত লড়াই
মেঘনা আলম দাবি করেন, তিনি কোনোভাবেই তাঁর প্রাক্তনের প্রথম সংসার ভাঙতে চাননি। তিনি লেখেন, “ঈসা যাতে ওর প্রথম স্ত্রীকে ছেড়ে না দেয় এবং আমার থেকে দূরে সরে যায়, তার জন্য আমি অনেক কান্নাকাটি করেছি। অথচ ঈসা ও তার স্ত্রী—উভয়েই আমাকে তাঁদের জীবনে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু আমার নিজের ভেতরের টানাপোড়েন ও মানসিক দ্বন্দ্বের কারণে আমি দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে মানিয়ে নিতে পারিনি। পরিস্থিতি বুঝে একপর্যায়ে আমি নিজেই খারাপ ব্যবহার, অবহেলা ও দূরত্ব তৈরি করে ওর মন থেকে সরে আসার চেষ্টা করি।”
তিনি আরও যোগ করেন, সম্পর্কের ইতি টানার উদ্দেশ্যে একপর্যায়ে তিনি জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো বন্ধ করেন এবং ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে পাঠানো ফুল শুকিয়ে যাওয়ার পর দূতাবাসে ফেরত পাঠিয়ে চরম অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। কেবল ঈসাকে ভুলে যাওয়ার তাড়নায় এবং তাঁকে আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ভ্যালেন্টাইনসের আগের রাতে সেই কুয়েতি কর্মকর্তার সাথে একটি ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন। তবে সেই ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বাইরে কিছু ছিল না বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
সামাজিক চাপ বনাম ব্যক্তিগত অনুশোচনা
স্ট্যাটাসের শেষাংশে ফেলে আসা সিদ্ধান্তের প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ করে মেঘনা আলম লেখেন, “আমার আসলেই মনে হয়, দ্বিতীয় হলেও কিংবা কয়েক বছর আড়ালে থাকতে হলেও হয়তো আমার ঈসার সাথে থেকে যাওয়া উচিত ছিল। সমাজ কী বলবে সেই ভয় এবং নিজেকে তথাকথিত ‘বিগার পারসন’ প্রমাণ করতে গিয়ে জোর করে সরে এসে আসলে আমি নিজেকেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছি।”
ইলিয়াস হোসাইনের কনটেন্টকে ‘মনগড়া রটনা’ হিসেবে অভিহিত করে মেঘনা আলম স্পষ্ট বার্তা দেন যে, ভিত্তিহীন প্রচারণার মাধ্যমে তাঁর সম্মান ও সামাজিক অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা ধোপে টিকবে না।
এস এম সোহাগ ফরাজী