চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আ.লীগ নেতার মৃত্যু: জামিন পাওয়ার পরও আটকে রাখার অভিযোগ আইনজীবীর
স্টাফ রিপোর্টার / চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মীরসরাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
নুর ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ।
কারাগার সূত্রে ঘটনার বিবরণ
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে কারাগারের অভ্যন্তরে হঠাৎ তীব্র বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন নুর ইসলাম। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে কারাগারের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বিকেল ৩টার দিকে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জামিনের পরও মুক্তির জটিলতা ও আইনজীবীর অভিযোগ
এদিকে নুর ইসলামের আইনজীবী শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেছেন, আদালতের সুনির্দিষ্ট জামিন আদেশ থাকার পরও তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা হয়েছিল।
আইনজীবী জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গত ৩১ জুলাই নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গত ৩১ আগস্ট আদালত থেকে তাঁর জামিন মঞ্জুর হয় এবং ওই দিন বিকেলেই জামিননামার আদেশ কারাগারে পৌঁছায়। কারা বিধি অনুযায়ী সেদিনই তাঁর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু মিরসরাই থানা পুলিশ তাঁকে অন্য একটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ (গ্রেপ্তার দেখানোর) আবেদন করায় কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে মুক্তি দেয়নি। ওই আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য ছিল।
আইনজীবী শাহাদাত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নুর ইসলাম যখন মারা যান, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কার্যত কোনো বৈধ আটকাদেশ বা পেন্ডিং মামলা কার্যকর ছিল না। জামিন মঞ্জুরের পরও আটকে রাখায় তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন এবং সেই মানসিক নিপীড়ন থেকেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।”
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি নুর ইসলাম স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
দৈনিক জীবনযাত্রা