মদনে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ মামলায় নবজাতকের বাবা প্রমাণিত হলেন মাদ্রাসা শিক্ষক সাগর: আদালতে ডিএনএ রিপোর্ট পেশ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ (DNA) পরীক্ষায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) সংশ্লিষ্ট আদালতে সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।
আদালতে প্রতিবেদন ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য
রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সোমবার অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয় এবং সিআইডি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ডিএনএ পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়।
পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় নবজাতকের সঙ্গে আসামির জৈবিক সম্পর্ক শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে। এ বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষ কাজ করছে।
মামলার বিবরণ ও গ্রেপ্তার
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর সে মদন উপজেলায় নানার বাড়িতে বসবাস করে স্থানীয় মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে র্যাব। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে পুলিশি রিমান্ড শেষে তার ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
সন্তান প্রসব ও ডিএনএ পরীক্ষা
ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সিলেটের একটি সরকারি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থানকালে গত ২ জুলাই সে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে গত ২৮ জুলাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সিলেটের সেফ হোম থেকে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠায়। সেই ফরেনসিক পরীক্ষাতেই অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের পিতৃত্ব নিশ্চিত হয়।
দ্রুত বিচারের দাবি
মানবাধিকারকর্মী কোহিনূর বেগম এ প্রসঙ্গে জানান, ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে অপরাধের বৈজ্ঞানিক ও অকাট্য প্রমাণ নিশ্চিত হয়েছে। এখন দ্রুত বিচার আইনের আওতায় ৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেন সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছায়।