ভৈরবে সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আল-আমিনকে কুপিয়ে হত্যা
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের কোপে আল-আমিন (৪২) নামের এক সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৩ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টার দিকে পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকায় এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়
নিহত আল-আমিন ভৈরব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ভৈরব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। এছাড়া তিনি ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক এবং স্থানীয়ভাবে সারের ব্যবসার পাশাপাশি ভৈরব বাজারে ‘রিভারভিউ’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তিনি শহরের আড়াইবেপারী বাড়ির জসিম উদ্দিনের ছেলে। তবে গত কয়েক বছর ধরে তিনি পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শহরের রানী বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের ভাষ্য
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আল-আমিন তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রিভারভিউ হোটেলেই ছিলেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাঁর সর্বশেষ কথা হয় এবং তিনি ৫ মিনিটের মধ্যে বাসায় পৌঁছাবেন জানিয়ে রাতের খাবার প্রস্তুত রাখতে বলেন। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
বাসার কাছাকাছি নির্জন সড়কে পৌঁছালে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাঁর পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। হামলাকারীরা তাঁর মাথায় একাধিক মারাত্মক আঘাত করে এবং একটি পায়ের রগ কেটে দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজনৈতিক পটভূমি ও পুলিশি তৎপরতা
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং তিনি দুই দফায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে তিনি অনেকটা সাবধানে ও আড়ালে জীবনযাপন করছিলেন।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কারা কী উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী
দৈনিক জীবনযাত্রা