দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়ায় ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে শ্বশুরকে শ্বাসরোধে হত্যা: পুত্রবধূসহ গ্রেফতার ৩
সিলেট প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমিজমা লিখে না দেওয়ার জেরে বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলীকে (৭৫) ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে ভাড়াটে খুনি দিয়ে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৬ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন:
১. হোসনা বেগম (৩৮) — নিহতের পুত্রবধূ ও সৌদি প্রবাসী ইসমাইল মিয়ার স্ত্রী (মূল পরিকল্পনাকারী)।
২. রুহুল আমিন (২২) — খাইরুল ইসলামের ছেলে ও হোসনা বেগমের দূরসম্পর্কের ভাগ্নে (চুক্তি বাস্তবায়নকারী)।
৩. নজরুল ইসলাম (২০) — মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
জমি বিরোধ ও ৫০ হাজার টাকায় হত্যার চুক্তি
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার ২ নম্বর নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভিটায় বসবাস করে আসছিলেন। বসতভিটার জমির মালিকানা সৌদি প্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়া ও পুত্রবধূ হোসনা বেগমের নামে লিখে না দেওয়ায় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের কোন্দল সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে পুত্রবধূ হোসনা বেগম শ্বশুরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মাফিক হোসনা বেগম তাঁর দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে হত্যার চুক্তি করেন।
রাতে দরজা খুলে দেওয়া ও ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরোধ
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে পড়লে পুত্রবধূ হোসনা বেগম কৌশলে ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। এরপর চুক্তিবদ্ধ রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও পলাতক জিয়াউর রহমান ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধের গলায় গামছা পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে সজোরে টেনে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
পরদিন ১৫ আগস্ট সকালে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালান হোসনা বেগম এবং তড়িঘড়ি করে দাফনের প্রস্তুতি নেন। তবে নিহতের মুখে রক্তের দাগ ও গলায় স্পষ্ট আঘাতের কালো দাগ দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয় এবং তাঁরা বিষয়টি দ্রুত থানায় জানান।
পুলিশের অভিযান ও স্বীকারোক্তি
ঘটনার পর নিহতের নাতনি মোছাঃ আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর দোয়ারাবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই আশরাফ খান ও এএসআই আমির হোসেন শিকদারসহ পুলিশের একটি দল রবিবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে হোসনা বেগমসহ তিন আসামিকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হোসনা বেগম ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে শ্বশুরকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান:
“খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী