গোয়াইনঘাটে ধর্ষণের বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করায় চাচাকে কুপিয়ে হত্যা করল ভাতিজা: এলাকায় চরম উত্তেজনা
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আপন চাচা কলিম উল্লাহকে (৫৫) ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে অভিযুক্ত ভাতিজা ও তার পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ৫ নম্বর পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত: ঘরে ঢুকে চাচাতো বোনকে ধর্ষণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে নিহত কলিম উল্লাহর বড় মেয়ে রুনা বেগমকে (১৮) নিজ বসতঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে তার আপন চাচাতো ভাই জুবায়ের আহমদ (১৮)। ভুক্তভোগী তরুণীর আর্তচিৎকারে পাশের ঘর থেকে তাঁর আরেক ভাইয়ের স্ত্রী রাজিয়া বেগম দ্রুত এগিয়ে এসে জুবায়েরের অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন।
তাঁর চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে জুবায়ের আহমদকে হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে স্থানীয় মাতব্বরদের উদ্যোগে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আগামী বুধবার সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠকের দিন নির্ধারণ করে জুবায়েরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সালিশ এড়িয়ে রাতারাতি বিয়ে ও থানায় অভিযোগ
ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং বিচার এড়াতে জুবায়েরের পিতা সয়ফুল্লাহ (৬০) দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন। তিনি তড়িঘড়ি করে পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামে ছেলের বিয়ে ঠিক করেন এবং গত শুক্রবার দিবাগত রাতে জুবায়েরের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করান।
সালিশ উপেক্ষা করে অভিযুক্তের বিয়ের খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে এবং স্থানীয়ভাবে কোনো সুবিচার না পেয়ে ভুক্তভোগীর পিতা কলিম উল্লাহ শনিবার দুপুরে সরাসরি গোয়াইনঘাট থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানায় অভিযোগ করায় অতর্কিত হামলা ও হত্যাকাণ্ড
থানায় অভিযোগের খবর পেয়ে অভিযুক্ত জুবায়ের আহমদ এবং তার পিতা সয়ফুল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কলিম উল্লাহর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে জুবায়েরের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে কলিম উল্লাহর গলার বাম পাশে সজোরে কোপ দিলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
পুলিশের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
“ভাতিজার দায়ের কোপে চাচা কলিম উল্লাহ নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সয়ফুল্লার আরেক ছেলে আমির উদ্দিনকে (২৭) আটক করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মূল অভিযুক্ত জুবায়ের ও তার পিতাসহ বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”