সাড়ে পাঁচ মাস পর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরলেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসা শেষে নিজ দেশে ফিরেছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা শের বাহাদুর দেউবা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) চিকিৎসা সম্পন্ন করে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ৮০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক। নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট-এর সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দরে দেউবাকে স্বাগত জানাতে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক ভিড় জমান।
জেন-জি আন্দোলন, রক্তক্ষয়ী হামলা ও পটপরিবর্তন
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে গড়ে ওঠা জেন-জি আন্দোলনের সময় বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা কাঠমান্ডুর বুধনীলকণ্ঠ এলাকায় দেউবার ব্যক্তিগত বাসভবনে অতর্কিত হামলা চালায়। ওই হামলায় দেউবা এবং তাঁর স্ত্রী আরজু রানা দেউবা মারাত্মকভাবে আহত হন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় সামরিক হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
দেউবা চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থানকালেই নেপালে বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থপাচার অনুসন্ধান বিভাগ (ডিএমএলআই) দেউবা দম্পতির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে দেশটির আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। নতুন সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেউবার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির চেষ্টা করলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে সংস্থাটি।
সুপ্রিম কোর্টের সুরক্ষা ও দেশে ফেরার কারণ
পরবর্তীতে দেউবা দম্পতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত তাঁদের গ্রেপ্তার না করার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। আদালতের সুরক্ষা পেয়ে গত জুনে দেউবা ডিএমএলআইকে লিখিত চিঠি দিয়ে দুই মাসের মধ্যে দেশে ফিরে তদন্তে সহযোগিতা করার আনুষ্ঠানিক আশ্বাস দিয়েছিলেন।
ধারণা করা হচ্ছে, আজ ১৪ আগস্ট থেকে কাঠমান্ডুতে শুরু হতে যাওয়া নেপালি কংগ্রেসের তিন দিনব্যাপী জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যোগ দিতেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত দেশে ফিরে এসেছেন তিনি।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ থাকায় এই মুহূর্তে দেউবাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব নয় এবং পুরো বিষয়টি অর্থপাচার অনুসন্ধান বিভাগের এখতিয়ারাধীন। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর থেকে তাঁর শোভাযাত্রায় পর্যাপ্ত সরকারি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।