সিলেটে নিজ বাসায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ তিনজনকে গলা কেটে হত্যা: পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক
সিলেট প্রতিনিধি: শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী।
দৈনিক জীবন যাএা।
সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় এক নৃশংস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজ বাসা থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী এবং অপর এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় নারীটি গৃহকর্মী বলে ধারণা করা হলেও স্থানীয়দের একাংশের দাবি তিনি আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। স্বজনদের উপস্থিতি না থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার ভেতরে রক্তাক্ত মরদেহগুলো দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন।
ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিন ইউনিট ও অতিরিক্ত পুলিশ
ঘটনার পর পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) পাশাপাশি সিআইডি (CID) এবং পিবিআই (PBI)-এর ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ শুরু করেছে।
মিতালী আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু জানান, সকালে বাসার ভেতরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা শুনে পুরো এলাকার মানুষ স্তম্ভিত হয়ে যান। পরে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার সকালে দুর্বৃত্তরা প্রাচীর ঘেরা বাড়িটিতে প্রবেশ করে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গলা কেটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
বাথরুমে হাত-মুখ ধুয়ে চম্পট ঘাতকদের!
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর একটি বাথরুম ভেতর থেকে লক করা ছিল। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা খুললেও বাথরুমের ভেতরে কাউকে পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ঘাতকেরা নৃসংশভাবে খুন করার পর বাথরুমে হাত-মুখ ধুয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় স্থান ত্যাগ করে।
জোড়া তদন্ত ও এলাকায় আতঙ্ক
নিহত আব্দুস সাত্তার এলাকায় পরিচিত একজন আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। একই পরিবারের তিনজনকে এভাবে নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় পুরো রায়নগর ও মিতালী আবাসিক এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে শত শত উৎসুক জনতা বাড়ির সামনে ভিড় জমান। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক কোন্দল নাকি ডাকাতির উদ্দেশ্য ছিল—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘাতকদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।