প্রবাসীদের কোরিয়ার শ্রমবাজারে সুযোগ বৃদ্ধি: মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের বৈঠক
দৈনিক জীবনযাএা :
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হকের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ (১১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে আয়োজিত এই বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুকের (Han Eunsook) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও শ্রম অভিবাসন
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন:
“বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৮,০৫৯ জন বাংলাদেশি কর্মী কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। আমাদের দক্ষ ও শৃঙ্খলিত কর্মীরা কোরিয়ার বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এম্প্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (EPS)-এর মাধ্যমে এই অংশীদারিত্বকে আমরা আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নতুন খাত ও সুযোগ সৃষ্টি
কোরিয়ান শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক বলেন:
“কোটা ব্যবহারের সর্বোচ্চকরণ, রোস্টার ব্যবস্থাপনা, কর্মী নির্বাচন এবং কোরিয়ান ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা আরও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে চাই। পাশাপাশি, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতসহ অতিরিক্ত কিছু নতুন খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সদয় বিবেচনা প্রত্যাশা করছি।”
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা
দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুক ইপিএস (EPS) পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে জানান:
“স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া মূলত ইপিএস পদ্ধতির মাধ্যমে কর্মী গ্রহণ করে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী গ্রহণে আমরা আন্তরিক, তবে সমগ্র কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়াটি যেন শতভাগ স্বচ্ছ হয়—সে বিষয়ে আমরা সতর্ক। এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।”
বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোখতার আহমেদ, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী।