নোয়াখালীতে চাকরি দেওয়ার নামে ব্ল্যাকমেইল: পর্ন ভিডিও তৈরির অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ গ্রেপ্তার ৫, উদ্ধার ৪ তরুণী
স্টাফ রিপোর্টার।
চাকরির প্রলোভনে তরুণীদের আটকে রেখে জোরপূর্বক পর্নোগ্রাফিক ভিডিও তৈরির অভিযোগে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে একই পরিবারের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ওই বাসা থেকে জিম্মি অবস্থায় থাকা চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।
উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকার একটি ভবনে ৯৯৯-এ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সালাউদ্দিন, তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তার, দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন এবং তাঁদের সহযোগী আবদুর রহিম। তাঁদের মূল বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় হলেও তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন।
জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ বাঁচাও আকুতি
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক তরুণী জিম্মিদশা থেকে গোপনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার এবং আটকে রাখা চার তরুণীকে উদ্ধার করে।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণের ক্যামেরা, ৬টি মুঠোফোন, ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত চাবুক, ছুরি ও কাঁচি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
চাকরির ফাঁদ ও নির্মম নির্যাতন
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিউটি পার্লারে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ডেকে এনে বাসার একটি রুমে আটকে রাখা হয়। পরে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করা হয়। প্রতিবাদ করলে ভুক্তভোগীদের ওপর চালানো হতো নির্মম শারীরিক নির্যাতন। ধারণকৃত ভিডিও একটি অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে প্রচার করে চক্রটি বিপুল অর্থ উপার্জন করত বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান জানান:
“চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সরল তরুণীদের পার্লার বা বিভিন্ন চাকরির ফাঁদে ফেলে পর্ন ভিডিও তৈরি করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন এবং আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী।