সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদ্ঘাটন: প্রধান অভিযুক্ত বাবুল আটক, গৃহকর্মীর সাথে প্রেমের বিরোধেই এই নৃশংসতা
সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজন খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) সকালে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধারের পরপরই পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশের অভিযান ও গণমাধ্যম ব্রিফিং
আটকের পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার গণমাধ্যমকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত গৃহকর্মীর সাথে বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বুধবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বাবুল মিতালী এলাকার ওই বাসায় গিয়ে গৃহকর্মীকে দরজায় ডাক দেয়। গৃহকর্মী দরজা খুলে দিলে বাবুল ভেতরে প্রবেশ করে এবং অনৈতিক বা অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে সাথে থাকা চাকু দিয়ে গৃহকর্মীর ওপর ধারালো আঘাত করতে থাকে।
একে একে তিনজনকে হত্যা
গৃহকর্মীর চিৎকার: বাবুলের চাকুর আঘাতে গৃহকর্মী চিৎকার শুরু করলে বাসার মালিক ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সাত্তারের সহধর্মিনী তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন।
গৃহকর্ত্রীকে হত্যা: এগিয়ে আসামাত্রই ঘাতক বাবুল তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাঁকেও হত্যা করে।
গৃহকর্তাকে হত্যা: স্ত্রীর আকুতি ও চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার ঘটনাস্থলে ছুটে এলে ঘাতক বাবুল তাঁকেও নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যা করে নিরাপদে স্থান ত্যাগ করে।
আলমারি তছনছ ও পলায়ন
নিহত দম্পতির চার সন্তানই বিদেশে থাকেন। ঘটনার পর ঘরের আলমারি ও ওয়ার্ড্রোব তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ঘাতক বাসার পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে আইনগত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এস এম সোহাগ ফরাজী।