২৮ নাগরিককে ফাঁসানোর চেষ্টা বাক স্বাধীনতা হরণের সামিল: বিভিন্ন মহলের তীব্র নিন্দা
দৈনিক জীবনযাত্রা।
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬
সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও বিভিন্ন পেশার ২৮ জন বিশিষ্ট নাগরিকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়েরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন। তারা বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের সমালোচনার খোঁড়া অজুহাতে এই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মূলতঃ দেশে মুক্তচিন্তা ও কথা বলার স্বাধীনতা হরণের এক অপচেষ্টা।
সোমবার (২৭ জুলাই) সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে নাম থাকা ২৮ বিশিষ্ট নাগরিক
সম্প্রতি ‘রাষ্ট্র সংস্কার ফোরাম’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে যাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেত্রী শমী কায়সার, নির্মাতা ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়ক রিয়াজ আহমেদ, সাংবাদিক আনিস আলমগীর, মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলম, অরুণা বিশ্বাস, রোকেয়া প্রাচী, আজিজুল হাকিম, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, শামীমা তুষ্টি, আশনা হাবীব ভাবনা, সাইমন সাদিক, সুজাতা আজিম, জায়েদ খান, চন্দন রেজা, মারিয়া কিসপট্টা, লেখক শান্তা ফারজানা, মোমিন মেহেদী এবং উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম।
যৌথ বিবৃতির বক্তব্য
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন নতুনধারা বাংলাদেশ (এনডিবি)-এর প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, জাতীয় সাংস্কৃতিকধারার উপদেষ্টা অধ্যাপক শুভঙ্কর দেবনাথ, বাংলাদেশ প্রেস ইউনিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি একরামুল হক গাজী লিটন, মানবাধিকার বাংলাদেশের মহাসচিব সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি, মুক্তিযুদ্ধ চর্চা কেন্দ্রের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন এবং সমাজ-সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি নূরুল ইসলাম চৌধুরী।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, “সমাজের খ্যাতিমান অভিনেতা-অভিনেত্রী, সাংবাদিক, সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক অবস্থান নেওয়া বাক স্বাধীনতা হরণের নজির তৈরি করছে। কোনো একটি আন্দোলনের ভুল বা ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করা কখনোই অপরাধ হতে পারে না।”
অভিযোগকারীদের শাস্তির দাবি
বিবৃতিদাতারা অভিযোগ তোলেন যে, ভূঁইফোঁড় সংগঠনগুলোর এমন কর্মকাণ্ড সমাজের সুস্থ ধারার কথা বলার পথকে রুদ্ধ করছে। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খ্যাতিমানদের আইনি জাঁতাকলে ফেলার চক্রান্ত করছে বলে দাবি করেন। একইসঙ্গে যারা এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর তদন্ত ও শাস্তির জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।