এমপি গাজী নজরুলের ‘অন্তরঙ্গ ভিডিও’ ভাইরালের ঘটনায় জামায়াতের বিবৃতি, তদারক করছে দলটি
বিশেষ প্রতিবেদক | দৈনিক জীবনযাত্রা:
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দলের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বক্তব্যটি প্রকাশ করা হয়।
দলের পক্ষে বিবৃতিটি প্রদান করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছে
প্রচারিত বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন,
“অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে। ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
ভিডিওর টাইমস্ট্যাম্প ও বিয়ের তারিখ নিয়ে নতুন বিতর্ক
গত ২০ জুলাই (সোমবার) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পরপরই জেলা জামায়াত এবং খোদ সংসদ সদস্য দাবি করেন, ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী তাঁর বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই পারিবারিকভাবে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এক ফেসবুকে বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসভবনে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি অভিযোগ তোলেন, ওবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি পারিবারিক চক্রান্তের জের ধরে তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ফুটেজ গোপনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও রাজনৈতিক হেনস্তার উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে। এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারও পৃথক ভিডিও বার্তায় এ দাবির পক্ষে অবস্থান নেন।
তবে ফ্যাক্টচেকিং অনুসন্ধান ও সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। অথচ এমপির লিখিত দাবি অনুযায়ী তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ২০২৬ সালের ১৭ জুন। ভিডিও ধারণের সময় (২০২৩ সাল) এবং বিয়ের দাবিকৃত তারিখের (২০২৬ সাল) মধ্যে তিন বছরের বৈষম্য ও অসামঞ্জস্য মেলায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ এবং তদন্তের পর পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসায় এখন সবার নজর দলটির চূড়ান্ত পদক্ষেপর দিকে।
এস এম সোহাগ ফরাজী।