ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন জামায়াত নেতা গাজী নজরুল: নারীটিকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি, ড্রাইভারের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিবেদক | দৈনিক জীবনযাত্রা:
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও, ভিডিওর নারীটিকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর নিজস্ব গাড়িচালক চক্রান্ত করে চাঁদা দাবি করে এবং অফিস রুমে থাকা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ফুটেজ মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাঁর হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, খাতায়-কলমে তাঁর স্ত্রীর সংখ্যা একজন।
বিবৃতিতে যা বললেন গাজী নজরুল
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি ঘটেছিল মগবাজারের একটি ব্যবসায়িক অফিসে। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন,
“গত ১৩ ডিসেম্বর আমার প্রথমা স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয়া স্ত্রী মোছা. মারিয়াম বেগম এবং মারিয়ামের মামা ও গাড়িচালক মো. ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারস্থ মো. মাছুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। যোহরের নামাজের পূর্বে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ বাইরে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ পর রুমে এসে আমাদের সতর্ক থাকতে বলে আবার চলে যায়।”
তিনি আরও জানান, এর কিছুক্ষণ পর ওবায়দুল্লাহ পুনরায় এসে দরজা খুলতে বললে দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম দরজা খুলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে ৫-৭ জন অপরিচিত লোক রুমে ঢুকে কৈফিয়ত তলব করে এবং ব্যাগ-পকেট তল্লাশি চালিয়ে নিচে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে এক লাখ টাকা দাবি করলে তারা সেই টাকা দিয়ে সেখান থেকে নিরাপদে প্রস্থান করেন।
গাড়িচালকের চক্রান্ত ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ
বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনা চলাকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ ফোন করে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাছুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে জানায়—টাকা না দিলে মগবাজারের লোকজন গাড়ি দেবে না। গাজী নজরুলের দাবি, প্রকৃতপক্ষে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহই ছিল এই পুরো চক্রান্তের মূল নায়ক।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহর দুলাভাই (দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাছুম বিল্লাহ)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও মানসিক টানাপোড়েন চলছিল। এই দ্বন্দ্বে ওবায়দুল্লাহ ষড়যন্ত্র করে এমপি, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং শ্বশুরের গাড়ি জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পরদিন রাতে পুলিশ ও স্বজনদের সহায়তায় এয়ারপোর্ট রোড থেকে গাড়িসহ চালক ওবায়দুল্লাহকে উদ্ধার করে মারধর করা হলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোমার মেয়ের জীবন আমার হাতের মুঠোয় এবং এমপিকেও দেখে নেব।’
সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে চরিত্র হননের অপচেষ্টা
বিবৃতিতে সাবেক এই এমপি বলেন,
“গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ হিংসা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের বশীভূত হয়ে পূর্ব থেকে অফিস রুমে গোপনে ধারণ করা সিসি ক্যামেরায় আমাদের স্বামী-স্ত্রীর অবস্থানের ভিডিও ফুটেজ মিডিয়ায় প্রচার করে হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি, হিংসাত্মক, চক্রান্তমূলক এবং আমার চরিত্র হননের শামিল।”
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে চক্রান্ত ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্যের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা।
এস এম সোহাগ ফরাজী।