আমতলীতে ইসমাইল শাহ মাজারে ফের আগুন: পুড়লো গিলাফ, ঘরে আটকে রাখা হলো ভক্তকে
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি | দৈনিক জীবনযাত্রা:
বরগুনার আমতলীতে এক বছর চার মাস পর আবারও ঐতিহ্যবাহী ইসমাইল শাহ মাজারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা মাজারের পাশাপাশি শয়নকক্ষে কেরোসিন ঢেলে এই অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এতে মাজারের গিলাফের একাংশ পুড়ে গেছে। আগুন দেওয়ার পাশাপাশি মাজারের এক ভক্তকে ঘরের ভেতর আটকে রাখায় স্থানীয় বাসিন্দা ও মাজার ভক্তদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গভীর রাতে কেরোসিন ঢেলে অগ্নিসংযোগ
স্থানীয় ও মাজার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, আমতলী পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলা এলাকায় ১৯৯৬ সালে হযরত ইসমাইল শাহ মাজারটি স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর এখানে দুই দিনব্যাপী পবিত্র ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে মাজারের ভক্ত সেকান্দার বয়াতি প্রকৃতির ডাকে বাইরে বের হলে হঠাৎ মাজারে আগুন জ্বলতে দেখেন। তাঁর চিৎকার ও ডাকাডাকিতে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে মাজারের পবিত্র গিলাফের একাংশ পুড়ে যায়।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে মাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাজারের মেঝেসহ ইসমাইল শাহর ছেলে শহীদ চিশতির ঘরের আশপাশে এখনো কেরোসিনের কড়া গন্ধ ও দাগ রয়েছে।
ঘর থেকে বের হতে পারেননি শহীদ চিশতি
মাজার প্রাঙ্গণে বসবাসরত ইসমাইল শাহর ছেলে শহীদ চিশতি অভিযোগ করে বলেন,
“মানুষের শোরগোল ও ডাকাডাকিতে আমার ঘুম ভাঙে। ঘুম থেকে উঠেই আমি ঘরের ভেতর কেরোসিনের তীব্র গন্ধ পাই। দ্রুত ঘর থেকে বের হতে গিয়ে দেখি দুর্বৃত্তরা বাহির থেকে দরজা আটকে দিয়েছে। পরে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এসে বাহির থেকে দরজা খুলে আমাকে উদ্ধার করেন। আমি এই জঘন্য ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মাজার ধ্বংসের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“মাজারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বারবার এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। স্থানীয়রা যদি রাতে দ্রুত এগিয়ে না আসতেন, তবে মাজার ও বসতঘর পুড়ে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের (২০২৫ সালের) ১৬ মার্চ মাজারটির ২৮তম ওরশ চলাকালীন একটি গোষ্ঠীর শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে আকস্মিক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। ওই বছরের সহিংসতায় অন্তত ২০ জন মাজার ভক্ত আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার ঠিক ১৬ মাস পর আবারও একই কায়দায় হামলা চালানো হলো।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন,
“মাজারে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাজার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”