বিশ্বনাথে বজ্রপাতে দিনমজুরের মর্মান্তিক মৃত্যু, ৪ সন্তানকে নিয়ে অথৈ সাগরে পরিবার
সিলেট প্রতিনিধি |শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী। দৈনিক জীবনযাত্রা
প্রকাশ: ০৮ জুলাই, ২০২৬
বিশ্বনাথ (সিলেট): সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় জমিতে কৃষি কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হয়ে মো: মেহরাব আলী (৫২) নামের এক দিনমজুরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ভোগশাইল গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি ফসলি জমিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মেহরাব আলী উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাঁঠলিপাড়া গ্রামের তোয়াহিদ আলীর পুত্র। তিনি সপরিবারে বিশ্বনাথ পৌরসভার ভোগশাইল গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিনের বাড়িতে দীর্ঘ দিন ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।
মাঠে কাজ করার সময় দুর্ঘটনা
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পেশায় দিনমজুর মেহরাব আলী আজ বুধবার বিকেলে ভোগশাইল গ্রামের পাশের একটি কৃষি জমিতে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতে যান। বিকেলে হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। একপর্যায়ে একটি তীব্র বজ্রপাত সরাসরি মেহরাব আলীর ওপর আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। পরে আশেপাশের লোকজন মাঠে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবার ও পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। বিশ্বনাথ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে নিহতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
চার অবুজ সন্তানকে নিয়ে অথৈ সাগরে পরিবার
নিহত মেহরাব আলী সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ নিস্ব হয়ে পড়েছে। মৃত্যুকালে তিনি ৪টি অবুজ সন্তান এবং স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাবার এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না অবুজ শিশুরা। তাদের কান্নায় পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে এই ৪ সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের ভরণপোষণ কীভাবে চলবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
দিনমজুর মেহরাব আলীর এমন আকস্মিক ও অবুজ সন্তানদের এতিম হয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো ভোগশাইল গ্রাম এবং তাঁর নিজ গ্রাম কাঁঠলিপাড়ায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ভুক্তভোগী এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং সরকারি সাহায্য সহযোগিতার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী