কালেমা খচিত পতাকা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্তের ওপর জোর
ঢাকা প্রতিনিধি: দেশে সম্প্রতি কালেমা খচিত পতাকা প্রদর্শন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালাতে পারে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ধর্মমন্ত্রী বলেন, “ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মহান আল্লাহ তাআলা ও তাঁর প্রিয় রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত জীবনাদর্শের বাইরে ইসলামে নতুন কোনো মতবাদ, বিশ্বাস কিংবা অনুশীলনের স্থান নেই।”
তিনি আরও বলেন, “ধর্মীয় সব বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদর্শের বাইরে নতুন কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা দেশের মুসলিম উম্মাহ কখনো মেনে নেবে না। এ ধরনের অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কওমি মাদ্রাসা, ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম, শায়খুল হাদিস, খতিব, মুফতি এবং আলেম-ওলামারা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী আলেম-ওলামারা বলেন, ধর্মপ্রাণ যুবসমাজ আন্তরিক ধর্মীয় অনুভূতি থেকে কালেমা খচিত পতাকা বহন করলেও পরবর্তীকালে একটি বিশেষ মহল বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং অপব্যাখ্যার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক বা ভুল ব্যাখ্যা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বক্তারা বলেন, ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে সঠিক জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতি, জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় আরও বলা হয়, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতীক বা বিষয়কে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দৈনিক জীবন যাএা
এস এম সোহাগ ফরাজী