যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ভিডিও সংরক্ষণ ও বিতরণের অভিযোগ: বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান বাতেন গ্রেপ্তার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে অপ্রাকৃতিক যৌন কর্মকাণ্ডের (Bestiality) ছবি বা ভিডিও ধারণ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষাবিদ রাইয়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (EEE) বিভাগের সাবেক কৃতি শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারসংক্রান্ত রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে নিজ কর্মস্থল সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনি অভিযোগের বিবরণ:
হিলসবরো কাউন্টি পুলিশের রেকর্ডে দেখা যায়, রাইয়ান আবদুল বাতেনের বিরুদ্ধে স্থানীয় আইনে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’—অর্থাৎ কোনো প্রাণীর সঙ্গে যৌন সংসর্গের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করা, তা অন্যদের মাঝে বিতরণ করা কিংবা নিজের ব্যক্তিগত ডিভাইসে বা হেফাজতে সংরক্ষণ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী এ ধরনের বিকৃত যৌনাচার ও সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কনটেন্ট সংরক্ষণ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
সামাজিক মাধ্যমে জল্পনা ও প্রাণীর পরিচয়:
এদিকে এই গ্রেপ্তারের খবর আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুক ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বা তার ভিডিও সংরক্ষণ করেছিলেন।
তবে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের পাবলিক নথিপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো পশুর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলসংক্রান্ত ছড়িয়ে পড়া এই তথ্যটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
শিক্ষাগত ও পেশাগত পরিচয়:
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তাঁর জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, রাইয়ান আবদুল বাতেন অত্যন্ত মেধাবী গবেষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং খ্যাতনামা ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি (পিএইচডি) অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে শিক্ষকতায় যুক্ত হন। এমন একজন উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত গবেষকের এ ধরনের অবক্ষয়জনিত কর্মকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা প্রবাসে ও দেশের একাডেমিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
দৈনিক জীবনযাত্রা
এস এম সোহাগ ফরাজী