জুলাই ক্রান্তির বীরত্বগাথা: এবার ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি
জাতীয় ডেস্ক | দৈনিক জীবনযাত্রা:
২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী বীর শহিদদের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের নাগরিকদের বৈশ্বিক পরিচয়পত্র তথা ই-পাসপোর্টে (e-Passport) এবার স্থান পেতে যাচ্ছে জুলাই বিপ্লবের অগ্রভাগের তিন বীর শহিদ— আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মো. ওয়াসিম আকরামের ছবি।
পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের ভেতরের পাতাগুলোতে (ইনার পেজ) দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শনের পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মারক হিসেবে এই তিন শহিদের গ্রাফিতি বা স্কেচ যুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈশ্বিক দলিলে জুলাই বিপ্লবের বীরত্ব
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, একটি দেশের পাসপোর্ট কেবল ভ্রমণের দলিল নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন। নতুন সংস্করণের ই-পাসপোর্টের ভেতরের পাতায় জলছাপ (Watermark) কিংবা বিশেষ মনোগ্রাম বা স্কেচ হিসেবে এই তিন শহিদের প্রতিচ্ছবি যুক্ত করা হবে।
শহিদ আবু সাঈদ: রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। গত ১৬ জুলাই পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দিয়ে সাহসিকতার অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি।
শহিদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সার। গত ১৮ জুলাই উত্তরার উত্তাল আন্দোলনে যখন চারদিকে টিয়ারশেল আর গুলি ছড়াচ্ছিল, তখনো শিক্ষার্থীদের মাঝে “পানি লাগবে কারো, পানি?” বলে চিৎকার করতে করতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন।
শহিদ মো. ওয়াসিম আকরাম: চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রদলের তুখোড় নেতা। ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে আন্দোলনরত অবস্থায় বুলেটের আঘাতে শহিদ হন এই তরুণ বীর।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত
সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পাসপোর্টের ভেতরের পাতায় এই পরিবর্তন আনার জন্য কারিগরি কাজ শুরু হয়ে গেছে। নকশা পুনর্বিন্যাসের (Redesigning) কাজ শেষ করে খুব দ্রুতই এই নতুন ই-পাসপোর্ট মুদ্রণে যাবে। এর ফলে বিশ্বের যেকোনো দেশে বাংলাদেশের নাগরিকরা যখনই পাসপোর্ট প্রদর্শন করবেন, তখনই জুলাইয়ের এই মহান আত্মত্যাগের ইতিহাস আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
সরকারের এই ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, শহিদ পরিবার এবং দেশের সাধারণ নাগরিকরা। তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও বীরত্বগাথা যুগ যুগ ধরে অম্লান থাকবে।