বরিশালে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: কোডিন মিশ্রিত ১০ বোতল সিরাপ ও মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার, শীর্ষ কারবারি পলাতক
স্টাফ রিপোর্টার।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) আওতাধীন এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে কোডিন ফসফেট মিশ্রিত নিষিদ্ধ ১০ বোতল উত্তেজক সিরাপ এবং মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বসতঘর থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন ৭টি মাদক মামলার পলাতক আসামি ও চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. আজিজ তালুকদার (৪৮)।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এয়ারপোর্ট থানাধীন একতা সড়ক এলাকায় এ সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিএমপি মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানের বিবরণ ও আলামত উদ্ধার:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পবিত্র কুমার হালদারের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল একতা সড়ক এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. আজিজ তালুকদারের বসতবাড়িতে অভিযান চালায়।
পুলিশের আভিযানিক দলের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে আজিজ তালুকদার পেছনের দরজা দিয়ে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৯ বোতল নিষিদ্ধ উইনসেরেক্স (Wincerex) সিরাপ, ১ বোতল এসকাফ (Eskuf) সিরাপ এবং মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
আদালতে বিচারাধীন ৭ মামলা:
এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আজিজ তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ কোডিনযুক্ত মাদক সরবরাহ ও বিক্রির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন আদালত ও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত ৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় পলাতক অভিযুক্ত মো. আজিজ তালুকদারকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট এয়ারপোর্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদকমুক্ত নগরী গড়তে পুলিশের এমন সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিএমপি।
এস এম সোহাগ ফরাজী।
দৈনিক জীবনযাত্রা