• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের অভিযানে কোডিন মিশ্রিত সিরাপ ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধার প্রতিবাদ: সুনামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শান্তিগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে র-ক্ত-ক্ষ-য়ী সং-ঘ-র্ষ: নারীসহ আহত ২৫, ২ জনের অবস্থা আ-শ-ঙ্কা-জ-ন-ক মুন্সিগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আ.লীগ কর্মী জাহেদ বেপারীকে কু/পি/য়ে হ/ত্যা: মাধবপুরে ৩ বছর আগের ক্লুলেস হত্যার রহস্য উন্মোচন সেপটিক ট্যাংক থেকে ম-র-দে-হে-র অবশিষ্টাংশ উদ্ধার নারীসহ গ্রেপ্তার ৪ কুলাউড়ায় মিনি ট্রাক থামিয়ে মাছ ও টাকা ছিনতাই: ছাত্রদলের ৩ নেতাকে স্থায়ী অব্যাহতি। আশুলিয়ায় জুতার কারখানার শ্রমিকের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলা। ৫০ হাজার টাকার সরকারি সহায়তা। জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবি ও টাস্কফোর্সের অভিযানে গরু ও ইয়াবাসহ আটক ২ শিল্প বাঁচলে মজুরি বাড়বে, অহেতুক প্ররোচনায় না পড়ে কাজে ফিরুন: ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী

জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

‘জামায়াত কখনোই সংস্কারের বন্ধু হতে পারে না’: চার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন

রাজনৈতিক প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নীতিহীন মিত্রতা, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া নারীদের রাজনৈতিক হিস্যা অস্বীকার এবং দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চার অভাবসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেত্রী সামান্তা শারমিন।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) এক দীর্ঘ লিখিত বিবৃতিতে এনসিপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় যাবতীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিভাজনের বিপরীতে ঐক্যবদ্ধ ও সার্বজনীন নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সামান্তা শারমিন জানান, গত প্রায় ১১ মাস ধরে দলের অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রাম চালিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু এনসিপি তার জন্মলগ্নের আদর্শ ও মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়ে পুরোনো ধারার রাজনৈতিক কাঠামোর কাছে আত্মসমর্পণ করায় তিনি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

১. সংস্কারের বন্ধু জামায়াত হতে পারে না:

পদত্যাগপত্রে প্রথম প্রসঙ্গ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সখ্য ও রাজনৈতিক সমঝোতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে অন্তত তিনটি মৌলিক জায়গায় সংস্কার প্রয়োজন ছিল—সাংবিধানিক সংস্কার, আইনের সংস্কার এবং রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর সংস্কার। কিন্তু জামায়াত এর একটিকেও বিশ্বাস করে না। সংগঠনটির দার্শনিক ভিত্তি কোনো উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রকল্প নয়। তারা অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে কুক্ষিগত করতে সংস্কারের ভণিতা করছে মাত্র।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৭১-এর যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায় স্বীকার না করা একটি শক্তির সঙ্গে এনসিপি যখন আপস করেছে, তখন দেশের সাধারণ উদার ও গণতান্ত্রিক মানুষ সংস্কারের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক লাইন হারিয়ে গেছে জামায়াতের মধ্যে।”

২. অভ্যুত্থানোত্তর নির্বাচন ও সুবিধাবাদের কৌশল:

২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ছিল ৪৬, ৫৪, ৭০ কিংবা ৯০-এর মতো একটি বড় ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের নির্বাচন। কিন্তু পুরোনো দলগুলো এটিকে নিছক ‘ক্ষমতা বদলের নির্বাচন’-এ পরিণত করতে চেয়েছিল। এনসিপির উচিত ছিল নিজস্ব আদর্শ নিয়ে একা লড়ে যাওয়া। কিন্তু তা না করে ‘বড় দলের লেজুড়বৃত্তি’ ও ১১ দলীয় ঐক্যের মতো নির্বাচনী কৌশলে জড়িয়ে দলটি অভ্যুত্থানোত্তর নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে সমূলে নষ্ট করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, শহিদ ওসমান হাদির মতো একক ও সাহসী ক্যাম্পেইনের আত্মত্যাগকে এনসিপি সংকীর্ণ জোট রাজনীতির অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেছে, যা অনৈতিক।

৩. অভ্যুত্থানে নারীর অবদানকে অস্বীকার ও রক্ষণশীলতা:

বিবৃতিতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নারীদের রাজনৈতিক অধিকারের প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন সামান্তা। তিনি বলেন, “২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে নারীরা ছিলেন সম্মুখসারির অকুতোভয় যোদ্ধা। কিন্তু বিজয়ের পর থেকেই অতি-ডানপন্থী ও রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলো নারীদের দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিতে তৎপর হয়েছে। এনসিপিও সেই নারীবিরোধী রক্ষণশীল মানসিকতার কাছে মাথা নত করেছে। আন্দোলনের সময় নারীদের ব্যারিকেডের সামনে নিরাপত্তার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বিজয়ের পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও নেতৃত্বে তাঁদের কোনো ন্যায্য হিস্যা দেওয়া হয়নি।”

৪. কাউন্সিল এড়িয়ে কমিটি পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রহীনতা:

দলের সাংগঠনিক ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পুরোনো দলগুলোর মতো এনসিপিও নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন এড়িয়ে গেছে। স্বচ্ছ কাউন্সিল না করে পুরোনো কায়দায় শুধু আহ্বায়ক কমিটি ‘রিস্ট্রাকচার’ বা রদবদল করে অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত দমন করা হয়েছে। যে দল নিজের ভেতরে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে পারে না, তাদের পক্ষে রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি অর্থহীন ও বিশ্বাসযোগ্যতাহীন।

ঐক্যের রাজনীতির আহ্বান:

বিবৃতি শেষে সামান্তা শারমিন বলেন, “একটি দলের সম্ভাবনা নষ্ট হওয়া মানেই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা মরে যাওয়া নয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোনো বিদেশি পরাশক্তির লেজুড়বৃত্তি দিয়ে চলবে না—ভারতবিরোধিতা করতে গিয়ে মার্কিন পক্ষপাত কিংবা আমেরিকাবিরোধিতা করতে গিয়ে চীনের স্বার্থ রক্ষা করা ‘বাংলাদেশপন্থা’ নয়। প্রকৃত রাজনীতি হতে হবে সার্বভৌমত্ব, নারীর সমানাধিকার, দেশীয় পুঁজির বিকাশ এবং বৈষম্যহীনতার ভিত্তিতে।”

তরুণ প্রজন্মকে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর সাথে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করার অনুরোধ জানান।

 

দৈনিক জীবনযাত্রা

এস এম সোহাগ ফরাজী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd