জিম করা নিয়ে সমালোচনার কড়া জবাব সোহেল তাজের: ‘তবে কি আধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসাযন্ত্রও বর্জন করতে হবে?’
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শারীরিক সুস্থতা ও শরীরচর্চাকে (জিম) ধর্মীয় বা পশ্চিমা সংস্কৃতি হিসেবে অপব্যাখ্যা দিয়ে বিরূপ মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।
দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের আবিষ্কারের দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রেখেছেন—এসবও কি তবে বর্জন করতে হবে?
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন ও যৌক্তিক পোস্টে সোহেল তাজ লেখেন,
“হায় আল্লাহ- সর্বনাশ! জিম করা যদি পশ্চিমা/ইহুদিদের এবং খারাপ লোকের লক্ষণ হয় তাহলে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, টেলিভিশন, রেডিও, এমআরআই (MRI) মেশিন সহ অন্যান্য মেডিকেল ডিভাইস, গাড়ি, মোটরসাইকেল, ইলেকট্রিসিটি, বিদ্যুতের বাতি, ফ্রিজ, এসি, ফ্যান, ঘড়ি, প্লেট, গ্লাস, চেয়ার, টেবিল, টুথব্রাশ, টুথপেস্ট সহ আরও শত শত জিনিস যেগুলি ৯৯% পশ্চিমা/ইহুদিরা শুধু ব্যবহার করে না—তারা আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করেছে—সেগুলি কি আমাদের এখন বর্জন করতে হবে?”
সুস্থ দেহ ও মন নিয়ে সচেতনতার আহ্বান:
বাংলাদেশের রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ দীর্ঘদিন ধরেই একজন কড়া ফিটনেস সচেতন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পর তিনি তরুণ সমাজকে মাদক ও বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস ও সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে আসছেন। নিজের বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে তিনি শরীরচর্চার নানা ভিডিও ও সুস্থ থাকার বার্তা নিয়মিত শেয়ার করেন।
তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাংশে শরীরচর্চা বা জিম সংস্কৃতিকে ধর্মীয় অনুশাসনের পরিপন্থী বা পশ্চিমা অপসংস্কৃতি হিসেবে চিত্রিত করার প্রবণতা দেখা যায়। এমন সংকীর্ণ ও বিভ্রান্তিকর মানসিকতার জবাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে আধুনিক মানবসভ্যতার উপযোগিতার দিকগুলো তুলে ধরেন তিনি।
সোহেল তাজের এই বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে বিপুল ইতিবাচক সাড়া ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অসংখ্য নেটিজেন তাঁর এই বাস্তবমুখী বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে মন্তব্য করছেন—সুস্বাস্থ্যের চর্চাকে অযৌক্তিকভাবে ধর্মের মুখোমুখি দাঁড় না করিয়ে বিজ্ঞানের সুফল গ্রহণ করাই আধুনিক ও সচেতন নাগরিকের লক্ষণ।
এস এম সোহাগ ফরাজী