অবৈধ অভিবাসন বন্ধ ও বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর কড়া তাগিদ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর: ‘অদক্ষ নয়, আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মী যাবে বিদেশে’
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ উপায়ে বিদেশযাত্রা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা এবং হুন্ডি পরিহার করে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এখন থেকে আর অদক্ষ শ্রমিক পাঠাবে না; বরং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে বিদেশে পাঠানো হবে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান ‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’-কে আনুষ্ঠানিক রিক্রুটিং লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর জাতীয় রূপরেখা:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই সময়োপযোগী উদ্যোগ আমাকে নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর এমন প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ৫ বছরে ১ কোটি কর্মক্ষম জনশক্তি বিদেশে প্রেরণের যে বৃহৎ পরিকল্পনা ও জাতীয় লক্ষ্য রয়েছে, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”
মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ এখন থেকে আর কোনো অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠাবে না। বিশ্বের প্রতিটি শ্রমবাজারকে আমরা এটি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে চাই যে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও পেশাগতভাবে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করার পূর্ণ সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে।”
হুন্ডি ও অবৈধ অভিবাসনে কঠোর হুঁশিয়ারি:
অবৈধ মানবপাচার, সাগরপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশত্যাগ এবং হুন্ডির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “সবাইকে উদাত্ত আহ্বান জানাই—আমরা আর কোনো অবৈধ পন্থায় বিদেশে পা বাড়াব না। অবৈধ পথ দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে। আমরা কোনো অবস্থাতেই হুন্ডির মতো অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাব না এবং যে দেশে কাজের জন্য গমন করব, সে দেশের আইন-কানুন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলব। গুটিকয়েক মানুষের লোভ ও অপকর্মের দায় যেন পুরো দেশ ও জাতির ওপর না পড়ে।”
প্রতারক ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারী এজেন্সির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বার্তা:
অভিবাসন খাতের মধ্যস্বত্বভোগী ও প্রতারকদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, “যারা দেশের ভেতরে কিংবা প্রবাসে বসে নিরীহ বিদেশগামীদের স্বপ্ন নিয়ে প্রতারণা করছেন, তাঁরা যদি অবিলম্বে এসব অপকর্ম থেকে সরে না আসেন, তবে আপনাদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রতারক চক্রের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর উদ্দেশে তিনি যোগ করেন, “আপনারা সঠিক, স্বচ্ছ ও সৎ পথে ব্যবসা পরিচালনা করুন; সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা ও নীতিগত পৃষ্ঠপোষকতা পাবেন। তবে অহেতুক ব্যক্তিগত অসৎ স্বার্থে যেসব এজেন্সি বিদেশগামী নিরীহ কর্মীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেবে, তাদের জাতির দুশমন ও ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিক এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ মন্ত্রণালয় ও আনসার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এস এম সোহাগ ফরাজী