ওসমানী হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারামারি: ভিডিও করতে গিয়ে হামলায় ২ সাংবাদিক আহত
সিলেট প্রতিনিধি (শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী):
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই গণমাধ্যমকর্মী। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন দৈনিক শ্যামল সিলেট পত্রিকার ফটো সাংবাদিক রেজা রুবেল এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিলেটভিউ২৪ ডটকমের নিবেন্দু তালুকদার।
গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পঞ্চম তলায় এ অপ্রীতিকর ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা:
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে হাসপাতালের পঞ্চম তলার একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে এক রোগীর স্বজনদের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও রক্তক্ষয়ী মারামারিতে রূপ নেয়। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর দুই স্বজনকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
ঘটনাটির খবর পেয়ে হাসপাতালে সংবাদ সংগ্রহে যান সাংবাদিকরা। মারামারি ও হট্টগোলের দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তাঁরা অতর্কিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর শুরু করেন।
হামলায় আহত ফটো সাংবাদিক রেজা রুবেল অভিযোগ করে জানান, তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে মারামারির ফুটেজ নিচ্ছিলেন। এ সময় ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা কোনো কথা না শুনেই সরাসরি তাঁর ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে বেদম মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেন। গুরুতর আহতাবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালের পঞ্চম তলার অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ:
সংঘর্ষ ও হামলার খবর পেয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ওসমানী হাসপাতালে এক রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঝামেলা বাধে। এ সময় রোগীর দুই স্বজনকে ইন্টার্নরা আটকে রেখেছিলেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে আটকে রাখা স্বজনদের নিরাপদে উদ্ধার করে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পরবর্তীতে আরও কিছু ইন্টার্ন চিকিৎসক ঘটনাস্থলে এসে পুনরায় হট্টগোল ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে পেশাগত কাজে থাকা দুইজন সাংবাদিক আহত হন। বর্তমানে হাসপাতাল চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় সিলেটের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
এস এম সোহাগ ফরাজী