তিন মাসে দেশব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৪ হাজারের বেশি: বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা ও অপরাধ দমনে দেশব্যাপী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গত তিন মাসে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬) মোট ৪৪ হাজার ২৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সদর দপ্তরের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সমন্বিত বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধভিত্তিক পরিসংখ্যান:
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত ৪৪ হাজার ২৪৮ জনের মধ্যে রয়েছেন—
মাদক কারবারি ও চোরাকারবারি: ৩০ হাজার ১৮৭ জন
অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী, পরিকল্পনাকারী ও সহযোগী: ৯ হাজার ৭৩ জন
চাঁদাবাজ ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী: ৩ হাজার ৪৪৫ জন
ছিনতাইকারী, দস্যু ও ডাকাত: ৭৯৭ জন
অবৈধ অস্ত্রধারী: ৭০৬ জন
কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য: ৪০ জন
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ:
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিন মাসের এই বিশেষ অভিযানে সারা দেশ থেকে ৫৫৭টি অবৈধ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৭২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৫৭৬টি তাজা গুলি এবং ৪৫৭টি কার্তুজ। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সারা দেশে মোট ৪৫৫টি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং এসব মামলায় সরাসরি জড়িত ৬৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎপরতা:
পুলিশের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সংস্থাটির কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রথম ১৮০ দিনে সংস্থাটি দেশজুড়ে মোট ৪০ হাজার ১৬টি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে।
এসব অভিযানে মাদক চোরাচালান ও বিক্রির অভিযোগে ১২ হাজার ৫৭৭টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় এবং ১২ হাজার ১৮ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়। অভিযানের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একই সময়ে মারাত্মক মাদকাসক্ত ১৬ হাজার ৬৪৭ জনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার এই ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী