অস্ত্র প্রদর্শন বিতর্কে তীব্র সমালোচনার জের: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও ব্যবহারের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। ঘটনার দুই দিনের মাথায় তিনি সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর এ চূড়ান্ত ঘোষণা দিলেন।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত বিএনপির একজন সংসদ সদস্য। জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ শেষে সরকারপ্রধান তাঁকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। অর্পিত দায়িত্ব তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করে আসছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতেই তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন।
ইশরাক হোসেন জানান, সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার স্বার্থে আজ সোমবার থেকেই তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, সরকারপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে এক মাদকবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগীদের হাতেও ভারী অস্ত্র দেখা যায়। অভিযানের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে একজন প্রতিমন্ত্রীর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে অবশেষে মন্ত্রিসভা ছাড়লেন তিনি।
এস এম সোহাগ ফরাজী