সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হচ্ছে দুর্গাপূজা: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নিরাপত্তা পরিদর্শন শেষে আইজিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট পূজা কমিটির যৌথ সমন্বয়ে দেশব্যাপী ৩৩ হাজারেরও বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) জনাব মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম। একই সঙ্গে তিনি উৎসবকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ দেশব্যাপী ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভক্তরা পূজা-অর্চনা পালন করছেন। এটা সম্ভব হয়েছে পূজা উদযাপন কমিটির সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় ও আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। পূজা কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা আমাদের পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে সার্বিক সহায়তা দিচ্ছেন। আশা করছি, প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত এভাবেই সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে।”
পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো কুচক্রী মহল যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, “উৎসব চলাকালে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে যেকোনো মূল্যে গুজবের ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। দেবী দুর্গার শিক্ষা ধারণ করে সব ধরনের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে যেতে হবে।”
গত আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সংকটকালীন মুহূর্ত স্মরণ করে আইজিপি বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে টানা পাঁচ-সাত দিন পুলিশের কোনো মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ছিল না। তখন সাধারণ মানুষের কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না, পুরো জাতি গভীর উদ্বেগের মধ্যে ছিল। সেই সুযোগে ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতিসহ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে দেশের আপামর জনতার সার্বিক সহযোগিতায় সেই বিপর্যয় কাটিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ আবার পূর্ণ শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।”
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ পুলিশ প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নেতৃবৃন্দ জানান, পুলিশ বাহিনী প্রতিটি মণ্ডপকে সুদৃঢ় নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে রেখেছে, যার ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারছেন।
এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী