সুনামগঞ্জে বোনের বিয়ের দাওয়াত না দেওয়ায় চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা: জগন্নাথপুরে চরম উত্তেজনা
স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইদের ধারালো অস্ত্রের নির্মম কোপে নাজিম উদ্দিন (৪৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে জগন্নাথপুর পৌরসভার লুদরপুর এলাকায় এ রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজিম উদ্দিন লুদরপুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনার নেপথ্য কারণ ও বাকবিতণ্ডা:
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার নাজিম উদ্দিনের ছোট বোনের আনুষ্ঠানিক বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়। পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে ওই বিয়েতে তাঁর আপন চাচাতো ভাই মাসুম মিয়ার পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ও তিক্ততা তৈরি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ও বিষয়টি মীমাংসা করার উদ্দেশ্যে নাজিম উদ্দিন নিজে চাচাতো ভাই মাসুমদের বাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়া নিয়ে মাসুমদের সাথে তাঁর তীব্র কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাসুম ও তাঁর ভাইয়েরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে নাজিম উদ্দিনের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে তিনি রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু:
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও নিহতের স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় নাজিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের আরেক চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, “কেবল বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়ার মতো একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কোনো কথা না শুনে মাসুমের নেতৃত্বে তার ভাইয়েরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাজিমকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথিমধ্যে নাজিম উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের ক্ষত পাওয়া গেছে।
পুলিশের পদক্ষেপ:
খবর পেয়ে পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তুচ্ছ ঘটনার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত মাসুম ও তাঁর ভাইদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ দল সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী