ফেসবুকে মন্ত্রীকে নিয়ে স্ট্যাটাস: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পাথর ব্যবসায়ী পুলিশ হেফাজতে
কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জুবায়ের আহমদ নামের এক পাথর ব্যবসায়ীকে থানায় নিয়ে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় তাঁকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নেওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়।
আটক জুবায়ের আহমদ উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১১ অক্টোবর) জুবায়ের আহমদ নিজের ফেসবুক আইডিতে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর একটি ছবি যুক্ত করে স্থানীয় বন্ধ থাকা পাথরমহাল চালুর দাবি জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন—
“১২ তারিখ নির্বাচনের পর ১৩ তারিখ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ কিছুই ঠিক হলো না। মন্ত্রী মহোদয় আমাদের জীবন কঠিন থেকে কঠিনতম করে দিলেন।”
পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর দুই দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর এবং জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল ব্যবসায়ী জুবায়েরকে থানায় ডেকে নিয়ে যান এবং পুলিশের কাছে তুলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে জুবায়েরের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে বিতর্কিত ওই পোস্টটি মুছে ফেলা (ডিলিট) পাওয়া যায়।
একজন নাগরিকের সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতামতের জন্য কেন তাকে থানায় নিয়ে হস্তান্তর করতে হলো—এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উসমান গনি বলেন, “জুবায়ের আহমদ নামের ওই ব্যক্তিকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে বা কোন আইনের আওতায় তাঁকে চূড়ান্তভাবে আটক বা গ্রেপ্তার দেখানো হবে, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।”
তিনি আরও জানান, ফেসবুক স্ট্যাটাসের ঘটনার জেরেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আনা হয়েছে, তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি তাঁকে থানায় ‘আত্মসমর্পণ’ করাতে নিয়ে এসেছিলেন বলেও দাবি করেন ওসি।
তবে ফেসবুকে একটি দাবি বা মতামত প্রকাশের জন্য কেন কাউকে ‘আত্মসমর্পণ’ করতে হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখে ওসি কিছুটা অস্বস্তির সাথে বলেন, “সেটাই তো! এখানে আত্মসমর্পণ করার কী আছে? আমরা মূলত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাকে থানায় এনে রেখেছি।”
এস এম সোহাগ ফরাজী