চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ পৌর এনসিপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে: থানায় লিখিত অভিযোগ, সন্তানদের ফেলে উধাও
চাঁদপুর ব্যুরো ও ক্রাইম ডেস্ক: চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বাহরাইনপ্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পৌরসভা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রবাসী ইব্রাহিম খলিলের বাবা হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত শেখ রহমত উল্লাহ সম্পর্কে প্রবাসী ইব্রাহিমের আপন চাচাতো ভাই। ঘটনার পর থেকে দুই কন্যাশিশুকে ফেলে উধাও হওয়া মা ও অভিযুক্ত রাজনীতিবিদের কোনো সন্ধান মিলছে না।
ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাতে বাহরাইনপ্রবাসী ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে গোপনে বের হয়ে যান শেখ রহমত উল্লাহ। এরপর থেকেই তারা দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনদের অভিযোগ, বাড়ি ছাড়ার সময় মরিয়ম ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ সাথে নিয়ে গেছেন। ঘটনার পর থেকে রহমত উল্লাহ এবং মরিয়ম—দুজনেরই মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
রোববার সকালে রহমত উল্লাহর স্ত্রী, প্রবাসী ইব্রাহিম খলিলের দুই কন্যা ফাতেহা জাহান (১০) ও ফারহান জাহান (৬) এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রতিকার ও উদ্ধারের দাবিতে শাহরাস্তি মডেল থানায় উপস্থিত হন।
দীর্ঘদিনের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ
অভিযোগের বাদী ও মরিয়মের শ্বশুর হারুনুর রশিদ দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পুত্রবধূ মরিয়মের সঙ্গে ভাতিজা রহমত উল্লাহর অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। সেই সম্পর্কের জের ধরেই তাঁরা রাতের আঁধারে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
প্রবাসী ইব্রাহিমের ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর আলম জানান, রহমত উল্লাহ ও মরিয়মের সম্পর্কের বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হওয়ার পর প্রবাসে অবস্থানরত ইব্রাহিম খলিলকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই শনিবার রাতে তারা কাউকে কিছু না জানিয়ে একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
পুলিশের বক্তব্য
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “প্রবাসীর স্ত্রীর নিখোঁজ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী