সিলেটে পানির দাবিতে নগর ভবনে গিয়ে ৬ যুবক আটক: সিসিকের অভিযোগ ভাঙচুরের, পানিপ্রত্যাশীদের দাবি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ
সিলেট ব্যুরো / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: সিলেটে তীব্র সুপেয় পানির সংকট নিরসনের দাবি নিয়ে সিটি করপোরেশন (সিসিক) ভবনে গিয়ে উল্টো ভাঙচুরের অভিযোগে আটক হয়েছেন জল্লারপার এলাকার ছয় যুবক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগর কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বয়ান তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সিলেট নগর ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত সিসিকের পানি শাখায় এ ঘটনা ঘটে।
সিসিকে ভাঙচুরের অভিযোগ ও পুলিশে সোপর্দ
সিসিক সূত্রে জানা গেছে, জল্লারপার এলাকার তীব্র পানির সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় প্রায় ২৫ জন বাসিন্দা খালি বালতি ও কলস নিয়ে নগর ভবনে যান। সেখানে পানি শাখার কর্মচারীদের সাথে আলোচনা চলার এক পর্যায়ে কথাকাটাকাটি ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, উপস্থিত উত্তেজিত যুবকদের কয়েকজন পাশের নির্মাণাধীন অংশের ইট-পাটকেল ছুড়ে পানি শাখার একাধিক কাচের জানালা ভাঙচুর করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে ছয়জনকে আটকে রেখে নিচে নামিয়ে আনেন এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেন।
সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ জানান, ষষ্ঠ তলায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কাচের জানালা ভাঙচুরের কারণে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির জানান, আটক ছয়জনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং সিসিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সিসিক প্রশাসকের অসন্তোষ প্রকাশ
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “যেকোনো ন্যায্য দাবি জানানোর একটি সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক নিয়ম রয়েছে। তাদের সংকট নিয়ে তারা সরাসরি আমার কাছে আসতে পারতেন। কিন্তু সরাসরি ৬ তলায় উঠে হট্টগোল ও সরকারি দপ্তর ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
ভাঙচুর অস্বীকার পানিপ্রত্যাশীদের: মুক্তির দাবি
এদিকে ভাঙচুরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন জল্লারপারের বাসিন্দা মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের। তিনি বলেন, “আমরা কোনো সহিংসতায় জড়াইনি, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে পানির সংকট দূর করার দাবি জানাতে গিয়েছিলাম। সেখানে কোনো ভাঙচুর হয়নি। অন্যায়ভাবে আমাদের ছয় নিরীহ যুবককে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। আমরা অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত সোমবারও তারা একই দাবিতে সিসিক ভবনে এসেছিলেন। তখন কর্তৃপক্ষ তিন দিনের মধ্যে পানি সরবরাহের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বৃহস্পতিবার ফের নগর ভবনে যেতে বাধ্য হন।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পানি সরবরাহে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে বলে উল্লেখ করেছেন সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী (পানি) এনামুল হক তাপাদার। তবে আটকের বিষয়ে তিনি অবহিত নন বলে জানান।
আটককৃতদের পরিচয়
আটক হওয়া ছয় যুবকই জল্লারপার এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা হলেন—মিরাজ, তাহমিদ, তাহের, জুয়েল, রুহান ও মারুফ।
মৌলিক চাহিদা পানির সংকট নিয়ে একদিকে এলাকাবাসীর হাহাকার, অন্যদিকে প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে জল্লারপারের সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
দৈনিক জীবনযাত্রা