দক্ষিণ সুরমার সিলামে মাজার ও মসজিদের দানবাক্সের টাকা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ওসিসহ আহত ৩০
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, স্টাফ রিপোর্টার / সিলেট:
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকায় হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট মাজার ও মসজিদের দানবাক্সের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে মোগলাবাজার থানার ওসিসহ অন্তত ৭ পুলিশ সদস্য এবং উভয় পক্ষের আরও ২৫-৩০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ১টার দিকে সিলামের চকের বাজার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) জামে মসজিদ ও ঈদগাহ প্রাঙ্গণে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট মাজার ও মসজিদের ক্যাশ বাক্সের টাকা ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জুমার নামাজের পূর্বে দানবাক্সের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা চরম আকার ধারণ করে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের ওপর হামলা ও আহতদের বিবরণ
সংঘর্ষের খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ইটপাটকেল ও হামলার মুখে পড়ে। এতে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনসহ সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এছাড়া সংঘর্ষে জড়িয়ে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন শেখপাড়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি ও মসজিদের মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি এবং লতিফুর রহমান মেহেদীসহ অনেকে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
সংঘর্ষের কারণে চণ্ডীপুল-বালাগঞ্জ সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার মুরব্বিদের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। স্থানীয় ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত