মাইজভাণ্ডার যাওয়ার পথে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হলো দুই ভাইকে: নিহত ১, আহত ১
স্টাফ রিপোর্টার / ফেনী: চট্টগ্রামের মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে যাওয়ার পথে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে দুই ভাইকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুজন মিয়া (৩৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং তাঁর ছোট ভাই শরিফ মিয়া গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছাগলনাইয়া উপজেলার মুহুরীগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে সুজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ ও আহতের ভাষ্য
নিহত সুজন ও আহত শরিফ কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা দুজনই পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় ভৈরব থেকে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে যাওয়ার উদ্দেশে ট্রেনে ওঠেন দুই ভাই। বগির ভেতরে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় তাঁরা ট্রেনের ছাদে ওঠেন। ট্রেনটি মুহুরীগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ছিনতাইকারী তাঁদের পথরোধ করে মুঠোফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
আহত শরিফ জানান, টাকা ও মোবাইল দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে প্রথমে তাঁকে এবং পরে তাঁর বড় ভাই সুজনকে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়। স্থানীয়রা শরিফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও রাতভর সুজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মরদেহ উদ্ধার ও আইনি পদক্ষেপ
বৃহস্পতিবার সকালে মুহুরীগঞ্জ এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে সুজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মাথায় ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান জানান, সুজনের মাথায় বড় ধরনের ক্ষত পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি ছিনতাই নাকি অন্য কোনো পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটেছে, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী
দৈনিক জীবনযাত্রা