শিবচরে মা’কে ধর্ষণের পর হত্যা, শিশুকে আড়িয়াল খাঁ নদে নিক্ষেপ: ঘাতক ফারুক গ্রেফতার
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, স্টাফ রিপোর্টার: মাদারীপুরের শিবচরে শম্পা খাতুন (২৮) নামের এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং তাঁর এক বছরের শিশুসন্তান আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে হত্যার অভিযোগে ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে নদীতে ফেলা শিশুটির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মরদেহ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত
গত বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকার একটি ফসলি জমির ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত হয় যে, নিহত শম্পা নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।
আদালত প্রাঙ্গণে পরিচয় থেকে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি মামলায় শম্পার স্বামী কারাগারে থাকায় মাদারীপুর আদালত প্রাঙ্গণে আসা-যাওয়ার সূত্রে ফারুকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। সেই পরিচয়ের সূত্রে ফারুক শম্পা ও তাঁর শিশুসন্তানকে শিবচরের বাখরের কান্দি এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে শম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ঝোপে ফেলে রাখে। পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে শম্পার এক বছরের শিশুসন্তান আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয় ঘাতক ফারুক।
যৌথ অভিযানে গ্রেফতার ও আলামত জব্দ
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ছমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০ আগস্ট শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮ যৌথ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুরের রাজৈর এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ফারুকের বাসা তল্লাশি করে নিহতের ব্যবহৃত সোনার নাকফুল, রুপার চেইন, এক জোড়া জুতা এবং পোড়ানো অবস্থায় ওড়না উদ্ধার করেছে। ফারুক এর আগেও গাড়ি চুরির মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কামাল জানান, ফারুক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা ও শিশুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। নদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের সহায়তায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।