শাবিপ্রবিতে হলের খাবার নিয়ে প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে মারধর: ছাত্রদলের ২ নেতা বহিস্কৃত, ক্যাম্পাসে ২ বছর নিষিদ্ধ
সিলেট প্রতিনিধি, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী | দৈনিক জীবনযাত্রা:
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) হলের খাবারের নিম্নমান নিয়ে কথা বলায় এক সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
একই সঙ্গে আগামী দুই বছর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান ও প্রবেশ করতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) রাত ১০টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শাবিপ্রবির সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম।
বহিস্কৃত শিক্ষার্থীদের পরিচয়
বহিষ্কৃত দুই ছাত্রদল নেতা হলেন—
হাসিবুর রহমান: পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক।
তারেক রহমান: পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও শাখা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক।
তারা দুজনই শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। উল্লেখ্য, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গত রোববার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাদের দুজনকে নিজ নিজ দলীয় পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ও ভুক্তভোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম জানান,
“বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই বছর বহিষ্কারাদেশ শেষ হওয়ার পর তারা নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ফিরে আসলেও ভবিষ্যতে আর কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হলের সিট বা রেসিডেন্সি সুবিধা পাবেন না।”
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের নিজস্ব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। এর জেরে ওই দিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ভুক্তভোগীকে ডেকে এনে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন ছাত্রদল নেতা হাসিবুর ও তারেক। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল শাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ।
এস এম সোহাগ ফরাজী।