লালমোহন থেকে চুরি হওয়া মহিষ বাউফলে বিক্রি করতে গিয়ে আটক ৪, নেপথ্যে পুরনো চোরচক্র
বিশেষ প্রতিবেদক | দৈনিক জীবনযাত্রা:
ভোলা থেকে চুরি হওয়া মূল্যবান মহিষ পটুয়াখালীর হাটে বিক্রি করতে গিয়ে বাউফল থানা পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন চারজন। এর মধ্যে চোরচক্রের মূল হোতা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১/ মো. আবুল কালাম ঢালী (৫২)।
গ্রেফতারকৃত অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ২/ নুর হোসেন (৬০) এবং ৩/ সোহাগ (৪৫)। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।
গত সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া বাজারে চোরাই মহিষ বিক্রি করতে গেলে গোপন সংবাদ ও স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিযান চালিয়ে তাঁদের হাতেনাতে গ্রেফতার করেন।
বসতবাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল চোরাই মহিষ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান অভিযুক্ত আবুল কালাম ঢালী বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর দাড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় চাঁদনী ডিজিটাল স্টুডিওর স্বত্বাধিকারী মো. খোকন ঢালীর বড় ভাই।
গত জুন মাসে ভোলার লালমোহন থানা এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ চোরচক্রটি মোট ৬টি মহিষ চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি করা মহিষগুলো লালন-পালনের দোহাই দিয়ে নিজের বসতবাড়িতে লুকিয়ে রাখেন আবুল কালাম। পরবর্তীতে গত সোমবার কালাইয়া পশুর হাটে ৪টি মহিষ চড়া দামে বিক্রি করতে গেলে বাজারে থাকা লোকজনের সন্দেহ হয়। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সততা না পেয়ে তাঁদের আটক করে।
পূর্বের মামলার রেকর্ড ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আবুল কালাম ঢালীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গরু ও পশু চুরির রেকর্ড রয়েছে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানাতেও পূর্বের চুরির মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
লালমোহন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জনাব আসাদের নেতৃত্বে এ ঘটনার গভীর তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চোরচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে তা উদঘাটন করে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।
এস এম সোহাগ ফরাজী।