এবার এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ড্রাইভারের হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
বিশেষ প্রতিবেদক | দৈনিক জীবনযাত্রা:
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ এনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ওবায়দুল রহমান নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে ওই এমপির সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী দাবি করে তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত এই আবেদনপত্রটি জমা দেন ওবায়দুল রহমান।
উত্তর কালশীতে হামলার বিবরণ ও হাসপাতালে চিকিৎসা
আবেদনপত্রে ওবায়দুল রহমান দাবি করেন, গত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবীর উত্তর কালশীর আলীনগর এলাকায় ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার-২’-এর একটি ফ্ল্যাটে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে আমিন, মাসুম বিল্লাহ ও মোস্তাসিম বিল্লাহ নামের তিন ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। হামলার সময় তাঁর মা ও ছোট বোন তাৎক্ষণিক এগিয়ে এসে তাঁকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নেন উল্লেখ করে আবেদনে আরও বলেন, বর্তমানে তিনি চরম প্রাণনাশের আশঙ্কায় আত্মগোপনে দিন কাটাচ্ছেন।
অপকর্ম জানার কারণেই হত্যার চেষ্টা!
আবেদনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ড্রাইভার ও পিএ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওবায়দুল রহমানের দাবি, সংসদ সদস্যের বিভিন্ন সংবেদনশীল কর্মকাণ্ড ও অপকর্ম সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জেনে ফেলার কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
পাশাপাশি দেওয়া আবেদনে ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জমি দখল এবং ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ওবায়দুল রহমান। তবে এসব অভিযোগের সপক্ষে আবেদনপত্রের সাথে কোনো স্বাধীন বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণপত্র সংযুক্ত করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়গুলোতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম কিংবা তাঁর প্রতিনিধি কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পটভূমি ও ভিডিও বিতর্কের রেষ
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই (সোমবার) রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু গোপন সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ফুটেজ ভাইরালের পর এক বিবৃতিতে সংসদ সদস্য দাবি করেন— দৃশ্যমান নারীটি তাঁর বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং গাড়িচালক ওবায়দুল রহমানই চক্রান্ত করে সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল ও চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এর পরপরই আজ ড্রাইভার ওবায়দুল রহমানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জীবন রক্ষার আকুতি ও এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার লিখিত অভিযোগ প্রকাশের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মোড় নিল।
এস এম সোহাগ ফরাজী।