কুমারখালীতে ১০ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকার: অভিযুক্ত শিক্ষক আটক, সালিশ বসিয়ে ধামাচাপার চেষ্টা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | দৈনিক জীবনযাত্রা:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক (বড় হুজুর) মোস্তাফিজুর রহমানকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।
স্বপ্ন দেখার দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন নির্যাতন
পুলিশ, ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই সকালে মাদ্রাসার বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গেলে মোস্তাফিজুর রহমান ওই মক্তব শিক্ষার্থীকে প্রথম বলাৎকার করেন। অন্য শিশুরা ঘটনাটি দেখে ফেললেও ভয়ে তখন কাউকে কিছু জানায়নি। তবে কানাঘুষায় বিষয়টি জানাজানি হওয়ার জেরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক শিশুকে মারধর করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। স্থানীয়রা মারধরের কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে বীভৎস বলাৎকারের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবার গুরুতর অভিযোগ— স্বপ্ন দেখার কথা বলে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই শিক্ষক শিশুটিকে গত দশ-বারো দিন ধরে একাধিকবার বলাৎকার করেছেন।
ধামাচাপা দিতে বিএনপির নেতাসহ মাদ্রাসা কমিটির সালিশ
লোমহর্ষক এ ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তা আইনের হাত থেকে রক্ষা ও ধামাচাপা দিতে আজ দুপুর ২টার দিকে মাদ্রাসায় এক বিচার সালিশের আয়োজন করে পরিচালনা কমিটি। এতে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ এবং সহ-সভাপতি ও জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিমসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার গভীরতা বাড়লে ও সেখানে বিপুল উৎসুক জনতা ভিড় জমালে খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সালিশ বসানোর বিষয়টি স্বীকার করে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি জানান, মীমাংসার উদ্দেশ্যে তারা বৈঠকে বসেছিলেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা মিথ্যা বলছে।
পুলিশের হস্তক্ষেপে শিক্ষক আটক
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, এই ধরনের ফৌজদারি ও গুরুতর সামাজিক অপরাধে কোনো অবস্থাতেই সালিশ বসানোর আইনি সুযোগ নেই।
তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে এবং ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকে পুলিশি হেফাজতে নেয়। প্রাথমিকভাবে তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী।