বিশ্বনাথে সিএনজিতে তুলে নিয়ে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: থানায় মামলা, প্রধান আসামি গেদা গ্রেপ্তার!
বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী | দৈনিক জীবনযাত্রা:
সিলেটের বিশ্বনাথে এক নারীকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে মুখ বেঁধে নির্জন ঘরে আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের লোমহর্ষক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১ জনকে আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রধান হোতা মো. গয়াছ মিয়া ওরফে গেদাকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোজ প্রভাকর রায়।
মামলার আসামি ও পরিচয়
গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি গয়াছ মিয়া গেদা (৪৪) বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের আলমনগর গ্রামের মৃত সিদ্দেক আলীর ছেলে। মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন—
২. আশিক মিয়া (৩০), পিতা- মৃত আয়না মিয়া (সাং- আলমনগর)
৩. সাইদুর রহমান (৩০), পিতা- হাসিব আলী (সাং- হায়াতেরগাঁও) এবং
৪. আমির আলী (২৮), পিতা- ছাদ মিয়া (সাং- বটতলা)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
ধর্ষণের শিকার ওই নারীর বাড়ি সিলেট এয়ারপোর্ট থানার কালারগুল (সাহেব বাজার) এলাকায় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
চন্ডিপুল থেকে ছাতক যাওয়ার পথে অপহরণ
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী গত ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) রাত অনুমান ৮টার দিকে সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার চন্ডিপুল এলাকা থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ করেন। অটোরিকশার চালক ও মামলার ৩ নম্বর আসামি সাইদুর রহমান গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তাকে বিশ্বনাথের অলংকারী ইউনিয়নের আলমনগর এলাকায় নিয়ে যায়।
সেখানে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওৎ পেতে থাকা গয়াছ মিয়া গেদা ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক ওই নারীকে স্থানীয় মন্তাজ আলীর একটি খালি বসতঘরে নিয়ে যায়। সেখানে আসামিরা ভুক্তভোগীকে অবরুদ্ধ করে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় পাশবিক নির্যাতন শেষে আসামিরা ওই নারীর ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা নগদ ২,২৫০ টাকা, তাঁর পার্সোনাল পাসপোর্ট, এনআইডি (NID) কার্ড এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ঘর থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা, ওসিসিতে ভর্তি
ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর পরদিন সকালে ভুক্তভোগী নারী কৌশলে ওই ঘর থেকে পালিয়ে লোকালয়ে চলে আসেন। পরে স্থানীয় পনাউল্লাহ বাজারে গিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানার একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত গয়াছ মিয়া গেদাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পুলিশ আজ ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেছে।
বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোজ প্রভাকর রায় জানান,
“ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্বনাথ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি গয়াছ মিয়াকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত মামলার বাকি পলাতক আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী