এমসি কলেজে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলা: দীর্ঘ ৬ বছর পর বহুল আলোচিত রায় আগামীকাল
সিলেট প্রতিনিধি | দৈনিক জীবনযাত্রা:
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে আগামীকাল। ঘটনার দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই বহুল প্রতীক্ষিত মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তোলা এই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এখন সবার চোখ আদালতের রায়ের দিকে।
সেই কালরাত ও দেশজুড়ে ক্ষোভ
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে বেড়াতে আসা এক তরুণীকে (২০) তাঁর স্বামীকে জিম্মি ও আটকে রেখে পাশবিক কায়দায় দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এই নজিরবিহীন ও বর্বরোচিত ঘটনায় তৎকালীন সময়ে পুরো দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। ঘটনার পরদিনই ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে মহানগরীর শাহপরান থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ জনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
আসামিদের গ্রেপ্তার ও ডিএনএ টেস্টের অকাট্য প্রমাণ
নৃশংস এই ঘটনার পর আসামিরা দ্রুত আত্মগোপনে চলে গেলেও পুলিশ ও র্যাবের যৌথ ও সাঁড়াশি অভিযানে তিন দিনের মধ্যে এজাহারনামীয় ৬ জন এবং সন্দেহভাজন ২ জনসহ মোট ৮ জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল এবং মাহফুজুর রহমান। গ্রেপ্তারের পর সকল আসামিই বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে আসামিদের ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করা হয়। সংগৃহীত আলামত পরীক্ষায় ৮ আসামির মধ্যে ৬ জনের ডিএনএ-র সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের সরাসরি ও অকাট্য মিল পাওয়া যায়। এরপর ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আদালতে এই ৮ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর ও সাক্ষ্যগ্রহণ
মামলাটি প্রথমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকলেও বিচারিক প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিগত ২০২৫ সালের মে মাসে এটি সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নতুন করে পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ, তাঁর স্বামী, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের একজন অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকসহ মোট ২৪ জন আদালতে উপস্থিত হয়ে অকাট্য সাক্ষ্য প্রদান করেন।
অবশেষে চলতি ২০২৬ সালের ৮ জুলাই (বুধবার) আদালতে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ ও চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। বিজ্ঞ আদালত যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১৪ জুলাই তারিখ ধার্য করেন। আগামীকাল এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী